logo
ads

কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ইমাম হুমায়ুন কারাগারে

তামিম রায়হান

প্রকাশকাল: ৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪১ পি.এম
কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ইমাম হুমায়ুন কারাগারে

ছবিঃ সুনামগঞ্জ কারাগার, ইনসেটে ইমাম হুমায়ুন আহমদ।

সুনামগঞ্জে বিয়ের প্রলোভনে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মসজিদের সেই ইমাম হুমায়ুন আহমেদ (৩০) এর জামিন না মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

আজ বুধবার (০৫ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ তাকে আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিশ্বম্ভরপুর জোনে সোপর্দ করলে আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এমদাদ তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।এদিকে ভুক্তভোগী ওই কলেজ ছাত্রী আজ ২২ ধারায় আদালতে তার জবানবন্ধী দিয়েছে।

অভিযুক্ত ইমাম হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে। 

ইমাম হুমায়ুন আহমদের জামিন না মঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের জেনারেল রেজিস্টেশন অফিসার (জিআরও) এ এস আই ফরিদ আহমেদ। জামিন শুনানিতে আসামি পক্ষের কোন আইনজীবী অংশগ্রহণ করেননি বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘবের বাজার থেকে ইমাম হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের রতারগাঁও গ্রামের দক্ষিণপড়া জামে মসজিদের ইমামতি করতেন। ইমামতি করার সুবাদে মসজিদের পাশের বাড়ির কিশোরী দিগেন্দ্র বর্মন সরকারী কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর সাথে প্রেম করেন। এক পর্যায়ে ফুসলিয়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। গত মে মাসের ২৪ তারিখ মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠিয়ে রাত ৯ টার সময় মসজিদের সংলগ্ন ইমামের কক্ষে নিয়ে কিশোরীকে জোর করে ধর্ষণ করেন এবং কাউকে না বলার জন্য চাকু দেখিয়ে ভয় দেখান। এরপর আবারও গেল জুলাই মাসের ১৭ তারিখে দুপুর আড়াই টার দিকে নিজের থাকার ঘরে ওই কিশোরীকে নিয়ে দ্বিতীয় বার ধর্ষণ করেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখান। স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তাকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখান ও একাধিক বার ধর্ষণ করেন। এরপর বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান ও ভয়-ভীতি দেখান।
এই ঘটনায় গত ২৬ জুলাই ওই কলেজ ছাত্রীর বাবা ইমাম হুমায়ুন আহমেদের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি রেকর্ড করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্বম্ভরপুর থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের নিদের্শনা অনুযায়ী অভিযুক্ত ইমামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃত ইমাম হুমায়ুন আহমদের স্বজন ও শুভানুধ্যায়িরা ধর্ষণ মামলাটি মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হবে বলে দাবি করেছেন তারা।

এই বিভাগের আরও খবর

Advertisement

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ