সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুব লীগ, ছাত্র লীগের ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল ৩০ আগস্ট রবিবার মধ্যনগর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাটি দায়ের করেন উপজেলার বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহাজাহান মিয়া। তিনি উপজেলার কার্তিকপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মধ্যনগরে মিছিল করলেও তাহিরপুরের স্থানীয় সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতকে অন্যায়ভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই । তবু তাকে মামলায় আসামী করা হয়েছে।
মামলায় সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত ছাড়াও তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ এখলাছুর রহমান তারা মিয়া, আজিজুল হক, এমরান হোসেন বিপক, রাজন মিয়া, রাজন চন্দ্র, রোমান মিয়া, সাজিদ মিয়া, সুজন মিয়া, জুয়েল আখঞ্জী, সুজিত, শাহিন মিয়া, ইমন মিয়া, জিয়া উদ্দিন, মহিবুর রহমান, নজির হোসেন, আল আমিন, মুশাহিদ হোসেন রানু, হাসান মিয়া, জাবের আহমদ, শামীম আহমদ, সেলিম ভূঁইয়া, নজরুল ইসলাম, শাকিল আহমদ লিজান, জুনায়েদ মিয়া, কাদের পাশা, আলী হোসেন, শাহজাহান চৌধুরী, জাহাঙ্গীর মিয়া, ইকবাল হোসেন, সোহাগ মিয়া, রাসেল, ফারুক মিয়া, কবির মিয়া, সাজ্জাত, শাখাওয়াত হোসেন শিপন, আঙ্গুর মিয়া, এমরুল হাসান, মিয়া হোসেন, লিমন মিয়া, লিক্সন মিয়া, জাহেদ মিয়া, জোটন রায় জনি, আব্দুল আমিন, জিলানী, জাহেদ মিয়া, রাসেল আহমেদ, কবির মিয়া ও সজিবের নাম রয়েছে।
মামলায় সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকতকে আসামি করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সাংবাদিকদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে সৈকতের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলে তাকে মামলায় আসামি করা অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন।
সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে। তিনি আরটিভির ডিজিটাল বিভাগ ও দৈনিক কালবেলা’র তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
ঢাকা পোস্টের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি তামিম রায়হান বলেন, কারা মিছিল করেছে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে প্রচার হয়েছে। এই মিছিলে কোথাও সাংবাদিক সৈকত ছিলো না। তবু তাকে হয়রানী করার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে আসামি করা হয়েছে। আমরা এই মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। মামলার বিষয়ে বাদীকে ফোন করেছিলাম তিনি সঠিক জবাব দিতে পারেননি।
সাংবাদিক শওকত হাসান সৈকত বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমি ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। অন্য থানার একটি ঘটনায় আমাকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয়টি উদঘাটনের দাবি জানাই।
মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব। সাংবাদিক শওকত হাসানের সম্পৃক্ততা না থাকলে তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

