সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বহুল আলোচিত শান্তিপুর নদী থেকে জোর করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় ও ভিডিও ধারণ করায় মারপিট করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ বুধবার(০৮ জুলাই) সকালে তাহিরপুর উপজেলার শান্তিপুর গ্রামের কাছে শান্তিপুর নদীর পাড়ে ফসলী জমিতে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুরানঘাট গ্রামের নজরুল ইসলাম নামের একজন আহত হয়েছেন এবং ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।
জোর করে বালু উত্তোলন, মোবাইল ফোন ছিনতাই ও মারপিটের ঘটনায় শান্তিপুর গ্রামের মুজিবুর রহমান, তার ভাই কফি মিয়া ও নজির হোসেন, তার দুই চাচাতো ভাই মুক্তার হোসেন ও কদু মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন আহত নজরুল ইসলামের বড় ভাই আতিকুর রহমান।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, শান্তিপুর নদীর পাড়ে আতিকুর রহমানের ফসলী জমি রয়েছে। সেই জমি থেকে মুজিবুর রহমান ও তার ভাইসহ অন্যরা প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। একাধিকবার বাধা নিষেধ করলেও প্রভাবশালী হওয়ায় কর্নপাত করেনি। আজ সকালে আবারও তাদের জমি থেকে জোর করে বালু তোলেন মুজিুবর রহমানের ভাইয়েরা। খবর পেয়ে আতিকুর রহমানের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম বাধা নিষেধ করেন এবং নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারন করেন। বালু নিতে বাধা দেওয়া ও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করায় নজরুল ইসলামে মারপিট করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। এতে নজরুল ইসলাম আহত হন, চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে নজরুল ইসলামকে উদ্ধার করেন। পওে তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্স ভর্তি করা হয়।
আহত নজরুল ইসলাম বলেন,শান্তিপুর নদী এলাকা থেকে বালু বিক্রির ব্যাপারে আমাদের এমপি(কামরুজ্জামান কামরুল) নিষেধ করেছেন তাই আমাদের নিজেদের জমি থাকার পরেও বালু বিক্রি করছি না।অথচ আমাদের জায়গার বালু তুলে অন্য জায়গায় বিক্রি করে দেয় নজরুল ও তার লোকজন।এমপি এক বক্তব্যে বলেছেন বালু লুটের ভিডিও করার জন্য আমি তাই ভিডিও করেছিলাম এর জন্য আজকে আমাকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। আমার নাকে মাথায় পিঠে আঘাতের করেছে। ওরা আমার মোবাইলও নিয়ে গেছে। এমপির নিষেধাজ্ঞা তারা অমান্য করছে প্রতিদিনই। তাদের আটকানোর মতো কেউ নাই।
এ নিয়ে অভিযুক্ত মুজিুবর রহমান জানান, জমি নিয়ে আতিকুর রহমানদের সাথে তাদের বিরোধ রয়েছে। তার ছোট ভাই কপি মিয়ার সাথে নজরুল ইসলামের কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে মারপিট করা হয়নি, কপি মিয়ার হাতে ছাতা ছিল, হয়তো ছাতা লেগে গিয়েছে।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফারুক আহমদ ফোকাস টিভিকে জানান, শান্তিপুর নদীর বালু উত্তোলনের ব্যাপারে আমরা একটা অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ যাচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে।

