সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার দাড়াইন নদীর পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আধীনে ছায়ার হাওরের স্থায়ী পাকা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের কাজে এক কৃষকের অভিযোগের কারণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
৮ মার্চ বুধবার সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মাণাধীন স্থায়ী বাঁধ প্রকল্প এলাকার রেকর্ডিয় বোরো জমির মালিক পিকলু তালুকদার অভিযোগ করলে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ওই জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। কৃষক পিকলু তালুকদার শাল্লা উপজেলা সদরের ডুমরা গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, জোর করে কৃষক পিকলু তালুকদারের বোরো জমির উপর দিয়ে স্থায়ী পাকা বাঁধ নির্মাণে অভিযুক্ত করা হয়েছে, বাঁধ নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়াজ ও নুনা ট্রেডার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফারুক মিয়া ও শংকর চন্দ্র রায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাল্লা উপজেলার শাখা কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশরী ওবায়দুল হক, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের উপ-সহকারি প্রকৌশলী আফজাল মিয়াকে।
আদালতে দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, পাউবোর শাখা কর্মকর্তা ওবায়দুল হক ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মিলে বাঁধের নিকট থাকা তার রেকর্ডিয় বোরো জমির উপর দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে আসছেন। রেকর্ডিয় জমির উপর বাঁধ নির্মাণে আপত্তি জানালে তাকে গুন্ডা বাহিনী লাঠিসোটা নিয়ে মারপিট করার চেষ্টা করে। পরে তার চিৎকারে পাশে থাকা কয়েকজন লোক তাকে রক্ষা করেন। বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে তার ফসলী জমির উপর দিয়ে জোর করে বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগকারী কৃষক পিকলু তালুকদার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড জোর আমার জমির উপর দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করার চেষ্টা করছে। গতবছর জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। জোর করে বাঁধ নির্মাণের সময় আপত্তি দিলে আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমি আদালতের শরনাপন্ন হয়েছি এবং আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মামুনুর রহমান বলেন, কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কৃষক পিকলু তালুকদারের রেকর্ডিয় জমির উপর দিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করায় আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন এবং স্থানীয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিবেদনের আলোকে আদালত পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন।
বাঁধ নির্মাণকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল মিয়া জানান, থানা থেকে আদালতের আদেশের একটি কপি তাদেরকে দিয়েছেন। আদালতের আদেশের পর তারা বাঁধের কাজ বন্ধ রেখেছেন। বিষয়টি তিনি পাউবোর সেকশন কর্মকর্তা ওবায়দুল হককে জানিয়েছেন এবং আদালতের কপিও দিয়েছেন।
তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাল্লা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত শাখা কর্মকর্তা উপ সহকারী প্রকৌশলী ওবায়দুল হক বলেন, আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জমান বলেন, ছায়ার হাওরের একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে আদালত থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয়পক্ষকে নোটিশ দেওয়ায় হয়েছে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চন্দ দাস বলেন, হাওরের স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে একটি অংশে একজন জমির মালিকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেছেন। বাঁধের ওই অংশ সরজমিনে পরিদর্শন করে আদালতে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

