logo
ads

জগন্নাথপুরে স্কুল টিফিনে অনিয়ম, সেদ্ধ ডিমের বদলে কাঁচা বিতরণের অভিযোগ

এফ টিভি ডেস্ক

প্রকাশকাল: ৬ মে ২০২৬, ০২:০৮ পি.এম
জগন্নাথপুরে স্কুল টিফিনে অনিয়ম, সেদ্ধ ডিমের বদলে কাঁচা বিতরণের অভিযোগ

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত দুপুরের টিফিনে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ, সেদ্ধ ডিমের বদলে কাঁচা ডিম বিতরণ এবং ওজনে কম দেওয়ার মতো নানা অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

 

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলার ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য টিফিন হিসেবে ডিম, বনরুটি, কলা ও দুধ সরবরাহের কথা রয়েছে। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে এ কর্মসূচি চালু করা হলেও বাস্তবে এর চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

কাঁচা ডিম, পচা খাবারের অভিযোগ

সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের সেদ্ধ ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে কাঁচা ডিম। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পচা ডিম পাওয়ার অভিযোগও করেছেন অভিভাবকেরা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, তাদের কাঁচা ডিম দিয়ে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সেদ্ধ করে খেতে বলা হয়। এতে অনেক সময় ব্যাগে ডিম ভেঙে বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়।

 

এদিকে মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী—স্নেহা রানী দেব, শান্ত কান্তি দেব ও রৌদ্রা রানী দেব—জানায়, প্রায় প্রতিদিনই তারা কাঁচা ডিম পায়। মাঝে মধ্যে নিম্নমানের বনরুটি ও ছোট আকারের কলাও দেওয়া হয়।

 

ওজনে কম, মানেও ঘাটতি

সরকারি নির্দেশনায় প্রতিটি ডিমের ওজন ৬৫ গ্রাম হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ৫০ গ্রামের ডিম সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে বনরুটি ও কলার ক্ষেত্রেও নিম্নমান ও কম ওজনের পণ্য দেওয়া হচ্ছে। আরও অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম থাকলেও বরাদ্দের পুরো খাবার দেখিয়ে অতিরিক্ত অংশ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছেন কিছু শিক্ষক।

 

‘সিন্ডিকেট’ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, টিফিন প্রকল্পকে ঘিরে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। নামমাত্র মানের খাবার সরবরাহ করে বিল-ভাউচারে বেশি খরচ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। এতে জড়িত একাংশ প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একজন অভিভাবক বলেন, “শিশুদের পুষ্টির জন্য দেওয়া খাবার নিয়ে এমন অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে তাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।”

 

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

টিফিন সরবরাহে নিয়োজিত এক কর্মী অপু দাস বলেন, তিনি শুধু সরবরাহের কাজ করেন, ডিম সেদ্ধ না কাঁচা—এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের এরিয়া ম্যানেজার সোহেল আহমেদ দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী সেদ্ধ ডিম সরবরাহ করা হয়। কোথাও অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মজিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রত্না রানী দাস বলেন, তাদের কাছে অনেক সময় কাঁচা ডিমই সরবরাহ করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ে সব উপকরণ পাওয়া যায় না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুব হোসেন জানান, খাবারের মান ও ওজন ঠিক রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানা গেছে, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

জগন্নাথপুর উপজেলার ১৫৮টি বিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এ অনিয়ম দ্রুত বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

 

 

সুত্র: সিলেট ভয়েস

এই বিভাগের আরও খবর

এই বিভাগের আরও খবর

জগন্নাথপুরে স্কুল টিফিনে অনিয়ম, সেদ্ধ ডিমের বদলে কাঁচা বিতরণের অভিযোগ

শিক্ষিকাকে গভীর রাতে ওয়াটসআপে কল দেন শিক্ষা অফিসার !

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক সহকারী শিক্ষিকাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় শিক্ষক সমাজে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষিকা। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহ

Advertisement

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ