সুনামগঞ্জে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে বসতঘরে মজুত করায় চাল বিক্রয়কারী ডিলারকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৬৫ বস্তা চাল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের কাইযারগাঁও গ্রামের ডিলার হাফিজুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চাল উদ্ধার ও তাকে জরিমানা করা হয়। হাফিজুল ইসলাম কাইয়ারগাঁও গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে ও খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ওই এলাকার চাল বিক্রেতা ডিলার। অভিযান পরিচালনা ও জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল। জানা যায়, খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলারের মাধ্যমে দরিদ্রদের মাঝে মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে প্রতি মাসে ৩০ কেজির এক বস্তা চাল ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হয়। সরকার ডিলারকে প্রতি কেজি চাল ১৩ টাকা দরে সরবরাহ করে। নির্দিষ্ট ভোক্তারা কার্ডের মাধ্যমে এই চাল ক্রয় করার সুযোগ পান। কিন্তু সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নের কাইয়ারগাঁও গ্রামের ডিলার হাফিজুল ইসলাম ভোক্তাদের চাল নির্দিষ্ট দোকান ও গোদামে না রেখে বসতঘরে মজুত করেন। স্থানীয়রা বিষয়টি প্রসাসনকে অবগত করলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় তার বসতঘর থেকে ৬৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ডিলার হাফিজুল ইসলামকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেন এবং চাল নির্দিষ্ট গোদামে নেওয়া নির্দেশ দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদিত্য পাল বলেন,‘ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে কাইয়ারগাঁও গ্রামে অভিযান চালিয়ে ডিলার হাফিজুল ইসলামের বসতঘর থেকে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ৬৫ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। অবৈধভাবে চাল মজুত করায় তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চাল নির্দিষ্ট গোদামে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবিএম মুশফিকুর রহমান বলেন,‘ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল গোদাম বা বিক্রির নির্দিষ্ট দোকান ছাড়া অন্য কোথাও রাখার সুযোগ নেই। গেল রাতে কাইয়য়ারগাঁও গ্রামের ডিলারের বাড়ি থেকে চাল উদ্ধার ও জরিমানা করা হয়েছে বলে জেনেছি। ডিলারের বিরদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

