logo
ads

যুবদল নেতার দখল করা সেই জায়গা ফিরে পেলেন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশকাল: ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৪ পি.এম
যুবদল নেতার দখল করা সেই জায়গা ফিরে পেলেন মুক্তিযোদ্ধার পরিবার

ছবি: এফ টিভি

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে প্রশাসনের সহযোগিতায় যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে বন্দোবস্তের সেই জায়গা ফিরে পেয়েছে ভুক্তভোগী ওই পরিবার। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার কর্তৃক বন্দোবস্তকৃত ভূমি চিহ্নিত করার পর বৃহস্পতিবার বিকালে জগন্নাথপুর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে চিহ্নিত জায়গায় টিনসেটের বেড়া দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও থানা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত আব্দুল্লাহ খানের বড় ছেলে আব্দুল গফফার বলেন, আমার বসতঘরটি ভেঙে গুড়িয়ে দিয়ে আসবাবপত্র লুটের পর আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। ঘটনার পর বড় বোনের বাড়িতে আশ্রয় নেই। ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মহোদয়কে জানানোর পর তিনি উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেন। পরে ৩০ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) তাঁদের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার পাঠিয়ে স্থানীয় তহসিলদার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আমার বাবার নামে বন্দোবস্তকৃত ভূমি চিহ্নিত করে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ওই ভূমিতে কাজ করতে গিয়ে বার বার বাধার সস্মুখিন হই। পরে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জগন্নাথপুর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে চিহ্নিত জায়গায় টিনসেটের বেড়া দিয়েছে। আমার বাবার নামে বন্দোবস্তকৃত ভূমি ফিরে পেতে সহযোগিতায় করায় স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও থানা প্রশাসনের প্রতি আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এদিকে, বসতঘর ভাঙচুর ও আসবাবপত্র লুটের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের জোর দাবি জানিয়েছেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা।

এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ বলেন, ওই যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার নামে বন্দোবস্তকৃত ভূমি নিয়ে বিরোধ দেখা দেওয়ায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সার্ভেয়ার ও স্থানীয় তহসিলদারের মাধ্যমে বন্দোবস্তকৃত ভূমি চিহ্নিত করে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি থানা পুলিশ দেখছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রয়াত আব্দুল্লাহ খানের বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠে স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, সিহাব মিয়া ও মজনু মিয়ার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১৭ মার্চ যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিন প্রধান আসামী করে জগন্নাথপুর থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত আরও ২০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলা দায়ের করেন ওই যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আব্দুল গফ্ফার।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলা দায়ের পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বন্দোবস্তকৃত ভূমিতে কাজ করতে যদি ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে কেউ বাধা প্রদান করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Advertisement

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ