সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা তুলতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা ভাতাভোগীরা। বুধবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে ভাতা তুলতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে শত শত ভাতাভোগী তাহিরপুর বাজারে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকে এসে এই ভোগান্তিতে পড়েন।
জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ব্যাংকে ভাতা তুলতে আসেন ভাতাভোগীরা। কিন্তু ব্যাংকের সামনে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দ্রুত সেবা না পাওয়ায় অনেককে অসহায় অবস্থায় ব্যাংকের আশপাশে বসে থাকতে দেখা যায়। সেই সাথে পরিকল্পনাহীন ভাবে একসঙ্গে কয়েকটি ইউনিয়নের ভাতাভোগীদের ভাতা বিতরণ করা হচ্ছে। এমনি ব্যাংকের পিছনে ময়লার ভাগাড়ের পাশে ভাতা প্রদানের বুথ করা হয়েছে। ফলে ব্যাংকে পিছনে অতিরিক্ত ভিড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও বিধবা নারী পুরুষকে ব্যাংকের পিছনের ময়লার ভাগাড়ের পাশে বসে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, একদিকে দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, অন্যদিকে পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করাটা তাদের জন্য আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
আম্বর আলী নামে এক বয়স্ক ভাতাভোগী বলেন, সকাল থেকে এসে বসে আছি। বসার কোনো জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে ময়লার পাশে বসে থাকতে হচ্ছে। আমরা বয়স্ক মানুষ, এত কষ্ট সহ্য করা খুব কঠিন।
আরেক বিধবা ভাতাভোগী দিরালা বেগম বলেন, আজকে নিয়ে দুই দিন আসলাম। যে টাকা পাবো তার অর্ধেকই গাড়ি ভাড়ায় চলে যাবে। তার ওপর রমজান মাসে রোজা রেখে সকাল থেকে বসে থাকা অনেক কষ্টের।
একজন প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার আমাদের ভাতা দেয় ঠিকই, কিন্তু এত দূর থেকে এসে তুলতে অনেক কষ্ট করতে হয়। যাতায়াতে অনেক টাকা খরচ হয়। পরিবারকেও আমাদের জন্য ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক তাহিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক অর্পণ জেত্রা বলেন, আজ ভাতাভোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছে। তারপরও আমরা দ্রুত সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে যেন ভাতাভোগীরা এমন ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য অনেক উপজেলায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ করা হয়। এতে ব্যাংক ও ভাতাভোগী উভয়েরই ভোগান্তি কম হয়। আমাদের এখানেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে সুবিধা হবে।

