logo
ads

সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশকাল: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩০ পি.এম
সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা

সুনামগঞ্জে আজ সোমবার সকাল থেকে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বন্যার আশঙ্কায় কৃষকেরা হাওরে যে যেভাবে পারছেন ধান কাটছেন। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি আজ দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জরুরি সভা করেছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাওরের ধান কাটার বিষয় নিয়েই আমরা বেশি চিন্তিত। আমরা এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমি নিজে হাওরে ঘুরেছি। কোনো কোনো হাওরে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। আমরা ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছি, যাতে দ্রুত হাওরের ধান কাটা শেষ করা যায়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।’

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, আজ ভারী বৃষ্টি হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে টানা তিন দিন সুনামগঞ্জ ও জেলার উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। এতে পানি আরও বাড়বে। এমনিতেই টানা বৃষ্টিতে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের মাটি দুর্বল হয়ে আছে। উজানের ঢল নামলে সেই ঢলের চাপ অনেক বাঁধ এখন আর সামলাতে পারবে না। পাউবো এবার সুনামগঞ্জে হাওরের ফসল রক্ষায় ১৪৫ কোটি টাকা প্রাক্কলন ধরে ৭১০টি প্রকল্পে ৬০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করেছে।

কৃষকেরা জানান, সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে হাওরের বোরো ফসল ঝুঁকিতে রয়েছে। এখনো হাওরের ধান পুরোপুরি পাকেনি। বন্যার আশঙ্কায় কৃষকেরা জমির ধান দ্রুত কাটার চেষ্টা করছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাঁরা ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টিতে অনেক হাওরে পানি থাকায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন চলছে না, আবার হাতে ধান কাটার শ্রমিকও মিলছে না। রোদ না থাকায় কাটা ধান মাড়াই ও শুকানো যাচ্ছে না। আবার যেকোনো সময় বন্যা হতে পারে, তাই ধান না কাটলেও বিপদ।

সদর উপজেলার দেখার হাওরপারের ইছাগড়ি গ্রামের কৃষক আবদুল কাইউম (৬০) বলেন, যেভাবে বৃষ্টি আর বজ্রপাত হচ্ছে, হাওরে তো যাওয়াই মুশকিল। ভয়ভীতি মাথায় নিয়ে অনেকে হাওরে আছেন। ধান কাটার চেষ্টা করছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন। গতকাল রোববার পর্যন্ত হাওরে ধান কাটা হয়েছে গড়ে ৫২ শতাংশ। এর পরিমাণ ১ লাখ ১৬ হাজার ২২৫ হেক্টর। এবার মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় ধান পাকতে সময় নিচ্ছে বেশি। জেলায় ৬০২টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার রয়েছে। তবে হাওরে পানি থাকায় অনেক জায়গায় হারভেস্টারে ধান কাটা যাচ্ছে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘জেলায় অর্ধেকের বেশি ধান কাটা হয়ে গেছে। তবে আজকের যে আবহাওয়া পরিস্থিতি, তাতে কৃষকদের মাঠে ধান কাটাই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। তবু তাঁরা চেষ্টা করছেন। আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

এই বিভাগের আরও খবর

Advertisement

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ