চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী শিশু রোগীকে সঠিক ওষুধ না নিয়ে ভুল ওষুধ দেওয়ায় শিশুর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে ফার্সেমীর মালিককে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ আজ দুপুরে বুধবার এই জরিমানা করেন। অভিযান পরিচালনার সময় র্যাব-৯ এর একটি দল উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার কেন্দ্রের শহরের সবচেয়ে বড় ওষুধ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সিটি ফার্সেমীর মালিক ফরিদ আহমদকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার ২৫ ভাগ টাকা অভিযোগকারী শহরের তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আম্মারকে প্রদান করা হয়েছে।
জানা যায়, তিন দিন আগে গত ৯ মার্চ সোমবার সুনামগঞ্জ শহরের তেঘরিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. আম্মারের ৩ বছর বয়সী মেয়ে হাজেরা তারান্নুম পাতলা পায়খানাসহ সর্দি- জরে অসুস্থ হলে শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সৈকত দাসকে দেখান। ডা. সৈকত দাস ওই শিুশুর ব্যবস্থাপত্রে (কিটি-) ওষুধ লিখেন। কিন্তু সিটি ফার্মেসী থেকে ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ (কিটি-) না দিয়ে ভুল করে দিয়ে দেওয়া হয় পটাশিয়ামের সিরাপ (কে টি)। ওই ভুল ওষুধ সোমবার বিকেলে ও রাতে সেবন করানো হলে শিশু অসুস্থ অসুস্থতা আরও বৃদ্ধি পায়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে শিশু সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং শিশুর বাবা চিকিৎসককে অসুখ না সেরে বাড়ার কারণ জানতে চান ও ওষুধগুলো দেখান। আর তখনই ধরা পরে ফার্মেসী থেকে ভুল ওষুধ দেওয়ার বিষয়টি। ভুল ওষুধ দেওয়ার বিষয়ে ফার্মেসী গেলে কোন সদুত্তর পাননি তারান্নুমের বাবা মো. আম্মার। এরপর তিনি ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করেন। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আজ বুধবার অভিযোগ যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর ফার্মেসী মালিক ফরিদ আহমদকে ৮০ টাকা জরিমানা করেন এবং অভিযোগকারী মো. আম্মারকে জরিমানার ২০ হাজার টাকা দেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘ একজন ভোক্তার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ না দিয়ে ভুল ওষুধ দেওয়া হলে সেই ওষুধ খেয়ে ভোক্তার রোগী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে সিটি ফার্মেসিকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নিয়ম অনয়ায়ী জরিমানার ২৫ ভাগ ২০ হাজার টাকা ভোক্তাকে প্রদান করা হয়েছে।

