সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদ (৪৯) খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতের নাম মো. সাদিকুর মিয়া (৪৫), তিনি উপজেলা সদরের নয়াহালট গ্রামের আব্দুল ওজুদ মিয়ার ছেলে। সাদিকুর মিয়া পেশায় অটো রিকশা চালক, আগে ঠেলাগাড়ি চালাতেন। শুক্রবার রাতে বাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে জামালগঞ্জ থানার ওসি বন্দে আলী জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃত সাদিকুর মিয়াকে আজ শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের তেলিয়াপাড়া গ্রামের নিহত ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদের শ্যালিকার সাথে নাকি প্রেমের সম্পর্ক ছিল সাদিকুর মিয়ার। একদিন বিষয়টি জানতে পারেন আব্দুল হামিদ। এরপর আব্দুল হামিদকে খুন করে তার লাশ এলাকার একটি ঝোপের ভেতরে ফেলে রেখে দেয়। এদিকে আব্দুল হামিদের পরিবার তার খোঁজ পাচ্ছিলেন না। লাশ পচে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা দুর্গন্ধ কোথা থেকে আসে খোঁজতে থাকেন। পরে ধরা পরার ভয়ে সাদিকুর গত ৪ মার্চ বুধবার গভীর রাতে অটো রিকশায় করে ভীমখালী ইউনিয়নের তেরানগর গ্রামের কাছের দোলতা নদীর সেতুর দক্ষিণে জামালগঞ্জ-নওমৌজা পাকা সড়কের পাশে লাশ ফেলে আসে।
পরদিন ৫ মার্চ বৃহস্পতিবার সকালে পথচারীরা হটাৎ করে সড়কের পাশে একটি লাশ দেখতে পায়। পুলিশ অজ্ঞাতনামা হিসেবে লাশটি উদ্ধারের পর এলাকার লোকজন চিনতে পারেন লাশটি নিখোঁজ ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদের। এর আগে আব্দুল ৫ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। পরে পুলিশ জামালগঞ্জ-লালবাজার সড়কের পাশের বিভিন্ন দোকানের সিসি ক্যামেরা পরীক্ষা করে লাল বহনকারী অটোরিকশা ও সাদিকুর মিয়াকে সনাক্ত করে এবং শুক্রবার রাতে বাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী বলেন,‘ ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অটোরিকশা চালক সাদিকুর মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আজ শনিবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে, তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়। ’

