সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ভমভমি বাজারের পাশে সুনামগঞ্জ—জগন্নাথপুর সড়কে গরু বাজার বসানোর অভিযোগ উঠেছে। সড়কটি একটি আঞ্চলিক সড়ক, এই সড়ক দিয়ে সুনামগঞ্জ—জগন্নাথপুর—আউশকান্দি—ঢাকার যোগাযোগ রয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই এই গরু বাজারটি শুরু হওয়ার পর প্রধান সড়কে গরু বেঁধে রাখা ও ট্রাক থেকে গরু—ছাগল উঠানো—নামানোর কাজ করার সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাধিক লোক।
সড়কে গরু রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল্লাহ বলেন, ভমভমি বাজারের অতিরিক্ত গরু আসার অনেক গরু সড়কে রাখা হয়েছে। এছাড়া ট্রাক থেকে গরু নামানো উঠানো সড়কেই করা হচ্ছে। এই বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপের প্রয়োজন। আমরা ইজারাদারকে বলেছি সড়ক থেকে গরু সরানোর ব্যবস্থা করতে।’
জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের স্থায়ী পশুর বাজার ভমভমি বাজার। এটি শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হলে বাজারটি জগন্নাথপুর ও ছাতক উপজেলার মোড় হওয়ায় প্রচুর ক্রেতা—বিক্রেতার সমাগম হয়। এই বাজারটি চলতি বাংলা বছরের জন্য ইজারা হয়েছে ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকায়। ইজারা নিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সিতু মিয়া।
ঈদ উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকাল থেকে আশপাশের গরু—ছাগলের পাইকার ও ক্রেতা—বিক্রেতারা গরু—ছাগল নিয়ে বাজারে আসতে থাকেন। সময়ের সাথে গরু—ছাগলের সংখ্যা বাড়লে বাজারের পাশের সুনামগঞ্জ—জগন্নাথপুর সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে গরু বেেঁধ রাখা হয়। এতে এই সড়কে চলাচলকারী যানবাহন তীব্র যানজটের কবলে পড়ে।
জগন্নাথপুর থেকে সুনামগঞ্জ আসা সিএনজি অটোরিকশা চালক মোহাম্মদ আলী বলেন, সুনামগঞ্জ—জগন্নাথপুর সড়ক একটি বড় সড়ক। এই সড়ক দিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে ঢাকার গাড়ি আসা—যাওয়া করে। কিন্তু এই সড়কের গরু বাজার বসানোর কারণে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
জগন্নাথপুর থেকে সুনামগঞ্জ আসা যাত্রী দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, সুনামগঞ্জ—জগন্নাথপুর সড়কের উপরই বিশাল গরু বাজার বসানো হয়েছে। এতে এই সড়কের ভমভমি বাজার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। আজ জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে যাওয়া—আসার সময়ে দুই বারই যানজটের কবলে পড়েছি।
ভমভমি বাজারের ইজারাদার সিতু মিয়া বলেন, বাজারে অনেক গরু—ছাগল এসেছে। মূল বাজারে গরুর জায়গা না হওয়ায় অনেকেই গরু নিয় সড়কে রয়েছেন। আমরা সবাইকে বাজারে থাকার জন্যই বলছি। কিন্তু জায়গা না হওয়ায় লোকজন সেখানে গরু রাখছেন। আমাদের লোকজন ও পুলিশ কাজ করছেন। থানার ওসি নিজেই বিষয়টি দেখছেন।’
এ ব্যাপারে কথা বলতে চাইলে একাধিক বার চেষ্টা করলেও শান্তিগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

