মাদক নির্মুল কমিটি ও স্থানীয়দের চাপে পড়ে মাদক গ্রহণ ও মাদক বেচা-কেনা থেকে দূরে থাকার লিখিত অঙ্গীকারনামা করেছেন মাদককারবারি মা ও ছেলে। ৩০ টাকার নন জুডিসিয়াল স্টাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন তাঁরা।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের কুনাটছড়া-পাঠানপাড়া গ্রামবাসীর চাপের পর এই অঙ্গীকারনামা দেন কুনাটছড়া গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. বিলকিছ আক্তার (৪০) ও তার ছেলে শান্ত মিয়া (২৫)। কুনাটছড়া গ্রামের তিন জন স্বাক্ষী রেখে এই অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন মা ও ছেলে। অঙ্গীকারনামায় বলেছেন, ভবিষ্যতে মাদকের ধারের কাছেও যাবেন না।
স্টাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামাটি শনিবার রাতে নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন মাদক নির্মুল কমিটি (মানিক) এর তাহিরপুর উপজেলার কমিটির সভাপতি মো. সাজ্জাদ। এরপর এলাকার লোকজন সেই অঙ্গীকারনামার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
লিখিত অঙ্গীরনামায় তারা উল্লেখ কররেন, আমরা উভয় অঙ্গীকারকারী হাজিরানে মজলিশ ও সাক্ষীগণের সম্মুখে এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, আমরা উভয়ে অজ্ঞতাবশত ও লোভের বশবর্তী হইয়া বেশ কিছুদিন যাবৎ মাদক বেচাকেনার মতো বেআইনী কাজে জড়িয়ে যাই, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ। অঙ্গীকারনামায় আরও উল্লেখ করে বলা হয়, আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পেরেছি এবং ভবিষ্যতে আর কোনদিন মাদক ক্রয়-বিক্রয়, গ্রহণ, বহন ও সংরক্ষণজনিত কোন ধরনের কাজে জড়িত হবো না। মাদকের ধারের কাছেও যাবো না। এছাড়া ও অন্যান্য যেকোনো বেআইনী কাজ হতে বিরত থাকব। আমাদের ক্ষমা করে এলাকায় শান্তিতে বসবাস করতে অনুমতি দিলে আমরাও সমাজের যাবতীয় নিয়ম-কানুন মেনে চলবো। অন্যথায়, অঙ্গীকার ভঙ্গ করিলে সমাজ যে সিদ্ধান্ত নিবে তাহা আমরা অঙ্গীকারকারীদ্বয় মাথা পেতে লিব। সকল শর্ত বুঝে, পড়ে, কাহারো দ্বারা প্ররোচিত না হয়ে, আমরা মাতা-পুত্র নিজ নিজ স্বাক্ষর/টিপসহি প্রদান করিলাম।
অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে, কুনাটছড়া গ্রামের মুরব্বী হানিফ মিয়া, ছবর আলী ও মোস্ত মিয়া। লিখিত অঙ্গীকারনামাটি মাদক নির্মুল কমিটি (মানিক) এর কুনাটছড়া-পাঠানপাড়া কমিটির সহ-সভাপতি ফারুক মিয়ার কাছে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন শান্ত মিয়ার মা বিলিকিছ আক্তার।
কুনাটছড়া-পাঠানপাড়া মাদক নির্মুল কমিটির সভাপতি পাঠানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিঠুন চৌধুরী বলেন, এলাকার লোকজন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের যন্ত্রণায় অতীষ্ট। এলাকার লোকজন অনেক বার তাদেরকে এসব কাজ (ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি) থেকে দূরে থাকার জন্য বলেছেন। কিন্তু তারা শুনেনি, সবশেষে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে দুই গ্রামের লোকজন ও মাদক নির্মুল কমিটির কাছে তারা ক্ষমা চায় এবং লিখিত অঙ্গীকার দিবে বলে জানায় এবং পরদিন গত শুক্রবার বিলকিছ আক্তার ও তার ছেলে শান্ত মিয়া লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছে। অঙ্গীকারনামাটি আমাদের কমিটির সহ-সভাপতি ফারুক মিয়ার কাছে রাখা হয়েছে। তারা যদি ভাল হতে চায় ভাল, নাহলে এলাকাবাসী বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবে।’
তাহিরপুর উপজেলা মাদক নির্মুল কমিটির সভাপতি মো. সাজ্জাদ বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ তারা (মা-ছেলে) অনেক দিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। এলাকার লোকজন তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এলাকার লোকজন ও স্থানীয় মাদক নির্মুল কমিটির চাপে নিজেদের শুধরানোর সুযোগ চেয়েছেন তারা। এলাকাবাসী তাদের মুখের কথা বিশ্বাস না করে স্ট্যাম্পে লিখিত নিয়েছেন। ভবিষ্যতে তারা যদি আবারও এসব খারাপ কাজের সাথে জড়িত হতে চায় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘
এই বিষয়ে স্থানীয় বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এস আই হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত বলেন, কুনাটছড়া গ্রামের বিলকিছ নামে এক মহিলার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টির তদন্ত চলছে, এলাকাবাসীর অভিযোগ তারা দীর্ঘদিনের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে। স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই।

