আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওর এলাকার বোরো ফসল ঝুঁকির মুখে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
গতকাল ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. কাওছার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টানা কয়েক দিনের বর্ষণে সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় ঝুঁকিপূর্ণ ডুবন্ত বাঁধগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ তৎপরতা নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের সরকারি ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার একাধিক হাওরের বোরো জমিতে পানি জমে জলাবদ্ধতাও দেখা দিয়েছে, যা বোরো ফসলের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করছে। ভারী বৃষ্টি হলে হাওরের জলাবদ্ধতার পরিমান আরও বৃদ্ধি পাবে ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে হাওরপাড়ের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ ঝুঁিকতে পড়তে পারে।
সম্প্রতি কানাডা প্রবাসী আবহাওয়া গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ তার এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর উপর দিয়ে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার আশঙ্কা, এ সময় আগাম পাহাড়ি ঢল নামতে পারে। তাই সুনামগঞ্জের হারাঞ্চলে বোরো ফসল ঝুঁিকতে পড়তে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর ছুটি বাতিল থাকবে। হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের অবস্থা মনিটরিং করার জন্য সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন সুরমা, বৌলাই, রক্তি, জাদুকাটাসহ সকল নদ-নদীর পানি অনেক নিচে রয়েছে।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেছেন,‘ শিলাবৃষ্টিতে জেলার প্রায় সকল হাওরে ৩৭৯ হেক্টর বোরো জমি আক্রান্ত হয়েছে। কিছু কিছু নিচু এলাকায় সামান্য পানি জমেছে, রোদ থাকলে পানি কমে যাবে। তবে টানা ভারি বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখবেন।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ছোট বড় ৯৫ টি হাওরের ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর বোরো জমি চাষাবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মে.টন। যার বাজার মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকা। এসব জমির ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০২ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করতে কৃষকদের দিয়ে ৭১৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রকল্প বাস্তবায় কমিটি (পিআইসি)। ইতোমধ্যে পিআইসির অনুকূলে ৬৪ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

