সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে বিবাহিত মুজিবুর রহমান (৪২), ছিলেন এক সন্তানের জনক। চার ভাইয়ের পরিবারের সবাই স্বচ্ছল। মুজিবুর রহমানও বিএনপির রাজনীতি করতেন, ছিলেন এলাকার পরিচিত মুখ ও ব্যবসায়ী।
কিন্তু হটাৎ করে সাগর পথে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে স্বপ্নের গ্রীস যাত্রায় ভূমধ্যসাগরে তার করুণ মৃত্যুর ঘটনায় হতবাক হয়েছেন পরিবার ও গ্রামের লোকজন। কারণ অধিকাংশ মানুষ ইউরোপে যায় পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য। কিন্তু মুজিবুর রহমানের পরিবার অনেক দিন ধরেই স্বচ্ছল ও প্রতিষ্ঠিত।
রনারচর গ্রামের বাসিন্দা প্রবীন তালুকদার বলেন,‘ মুজিবুর রহমান ভাল মানুষ ছিলেন। এলাকার পরিচিত মুখ ছিলেন, সবার সাথে তার ভাল সম্পর্ক ছিল। পারিবারিকভাবেও তারা স্বচ্চল কিন্তু অবৈধপথে দালালেরর মাধ্যমে সাগর পথে বিদেশ যেতে গিয়ে সাগরে মৃত্যুর ঘটনায় সবাই অবাক হয়েছে। সে কেন বিদেশে যেতে চাইল, তাদেরতো অর্থের অভাব ছিল না ? তার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রামে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।’
মুজিবুর রহমানের চাচাতো ভাই লোকমান হোসেন বলেন,‘ মুজিবুরের বড় ভাই এমরান হোসেন দীর্ঘদিন লন্ডনে থাকার পর বর্তমানে দেশে আছেন। তার বড় দুই ভাই একলিম হোসেন ও ফয়জুর রহমান ফ্রান্সে আছেন। তাদের অর্থের কোন অভাব ছিল না। যদি তার বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজনই ছিল সে বৈধভাবে ভিসা নিয়ে যেতে পারত। এভাবে যাওয়া উচিত হয়নি, এখন তার বাড়িতে থাকার লোকই নাই।’
মুজিবুর রহমানের বড় বোনের জামাই মুক্তির পাশা বলেন,‘ তার বড় দুই ভাই ইউরোপে থাকেন, তাই সেও ইউরোপ যাওয়ার জন্য উদগ্রিব ছিল। পরিবার থেকে তাকে বারবার নিষেধ করা হয়েছে, কারণ সবাই বাড়ির বাহিরে থাকে বাড়িতে থাকার মত কেউ নাই। কিন্তু সবার বাধা উপেক্ষা করে হটাৎ করে সৌদি আরব গিয়ে জানায় সে ইউরোপে যাচ্ছে। এরপর আমরা গতকাল খবর পাই সে সাগরে মারা গেছে। ইউরোপ যাওয়ার ইচ্ছাই তার জন্য কাল হয়েছে। ’
মুজিবুর রহমানের বড় ভাই লন্ডন ফেরত এমরান হোসেন বলেন,‘ আমি বেশ কয়েক বছর লন্ডনে থাকার পর এখন দেশেই (সিলেট) থাকি। আমার দুই ভাই ও আমার দুই ছেলে বিদেশে থাকে। মুজিবুর কাউকে স্পষ্টভাবে কিছু না জানিয়ে বিদেশে চলে যায়। একদিন ফোন করে বলে সৌদি আরবে আছে। গতকাল হটাৎ করে খবর পাই আমার ভাই আর নাই। তার এমন মৃত্যুর খবরে আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তার কী দরকার ছিল বিদেশ যাওয়ার।

