logo
ads

মহিষ চুরির পর জবাই করে মাংস নিয়ে গেলো চোরেরা

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশকাল: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৪ পি.এম
মহিষ চুরির পর জবাই করে মাংস নিয়ে গেলো চোরেরা

রাতের আধাঁরে মহিষ চুরি করার পর জবাই করে মহিষের মাথা ও চামড়া ফেলে রেখে সকল মাংস নিয়ে গেছে চোরেরা। গতকাল বুধবার রাতে সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে উপজেলার জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের করচ বাগানের দক্ষিণে হালীর হাওরপাড়ে এই ঘটনা ঘটেছে।  
আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনা জানাজানি হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাওরপাড়ে জনবসতি স্থাপনের পর এমন কাণ্ড ঘটেনি বা শুনেননি তারা। গৃহপালিত গরু-মহিষ ও ভেড়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় লোকজন।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশে সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলার বিশ^ম্ভরপুর উজেলার ফতেপুর উনিয়নের বাগুয়া গ্রামের কৃষক তারা মিয়া জমি চাষের জন্য তিনটি মহিষ পালন করেন। মহিষগুলো দিনে গ্রামের পাশের চরানো হয়। ফসল নষ্ট করার আশংকায় রাতে নদীর পাড়ে বেধে রাখা হয় এবং সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রতিদিনের ন্যায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে চরানোর জন্য গিয়ে দেখতে পান একটি বড় মহিষ নেই। সাথে সাথে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন ও বিভিন্ন এলাকার সকল আত্মীয়-স্বজনকে জানান।
এদিকে আজ সকালে জামালগঞ্জের উত্তর কামলাবাজ গ্রামের তার এক আত্মীয় হাওরে জমি দেখতে গিয়ে খবর পান  কে বা কারা একটি মহিষ জবাই করে মাথা ও চামড়া ফেলে মাংস নিয়ে গেছে। এরপর তারা মিয়াকে  তিনি বিষয়টি জানালে তারা মিয়া গিয়ে দেখতে পান জবাই করা মহিষটি তারই। এই ঘটনায় তারা মিয়া জামালগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পেয়ে আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে জামালগঞ্জ থানার পুলিশ।
স্থানীয় লোকজন জানান, গত দুইদিন আগেও শরিফপুর গ্রামের রুপা মিয়া মায়ের দুই ভেড়া চুরি হয়েছিল। পরদিন ওই দুইটি ভেড়ার মাথা ও চামড়া একই এলাকায় পেয়েছিলেন। মহিষের মত দুইটি ভেড়াকেও জবাই করে মাংস নিয়ে গিয়েছিল দুর্বৃত্তরা।
ঘটনাস্থলের পাশের বেতাল আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সিরাজুল ইসলাম মাসুদ বলেন, এমন ঘটনা আগে শুনিনি। আজ সকালে শরীফপুর গ্রামের করচ বাগানের দক্ষিণে জবাই করা একটি মহিষের মাথা ও চামড়া দেখতে পান লোকজন। পরে পুলিশ ও মহিষের মালিক আসার পর জানা যায় এটি গতকাল বুধবার রাতে চুরি করে এখানে এনে জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে। এর আগে শরীফপুর গ্রামের রুপা মিয়ার মায়ের দুইটি ভেড়া চুরি করে এভাবেই জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে। পর পর দুইটি ঘটনায় গবাধিপশু চুরির আশংকা করছেন মানুষ। কারণ এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি বা শুনিনি। ’
মহিষের মালিক তারা মিয়া বলেন, আমার গরু নেই, দুটি বড় মহিষ একটি ছোট মহিষ রয়েছে। এগুলো দিয়ে হালচাষ করি। মহিষগুলো রাতে নদীর পাড়ে বাধা থাকে। আজ সকালে গিয়ে দেখি একটি নাই। সাথে সাথে খোঁজাখুঁিজ করি এবং সকল আত্মীয়-স্বজনকে জানাই। পরে জামালগঞ্জ থেকে জানানো হয় হাওরে একটি মহিষের মাথা ও চামড়া পাওয়া গেছে। দুপুরে গিয়ে দেখি এটা আমার মহিষ ছিল। আড়াই লাখ টাকা মহিষটির দাম হয়েছিল। ওই এলাকার লোকজন জানিয়েছেন এক মহিলার দুইটি ভেড়াও নাকি চুরি করে এভাবেই জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে। থানায় অভিযোগ করেছি, দেখি এখন পুলিশ কী করে।
অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জামালগঞ্জ থানার এএসআই সুমন দেব। তিনি বলেন, বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার বাগুয়া গ্রামের তারা মিয়া থানায় অভিযোগ করেছেন জবাই করা মহিষটি তার। গতকাল বুধবার রাতে নদীর পাড় থেকে মহিষটি চুরি হয়েছিল। চোরেরা সম্ভবত রাতের আধারে হাওরে মহিষটিকে জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

এই বিভাগের আরও খবর

Advertisement

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ