logo
ads

ফসলরক্ষা বাঁধে অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি

রুহুল আমিন

প্রকাশকাল: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৭ পি.এম
ফসলরক্ষা বাঁধে অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি

ছবি:এফ টিভি

‘দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করো, হাওরাঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করো’ শ্লোগানে সুনামগঞ্জে হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের কাজে পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা-উপজেলা প্রশাসনের দুর্নীতি প্রতিরোধে এবং বর্ধিত সময়ে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ার প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। 
গতকাল শনিবার বিকেলে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে সুনামগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকজন অংশগ্রহণ করেন। 
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন,  জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, অধ্যাপক সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, কবি ইকবাল কাগজী, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সহ সভাপতি শাহ কামাল, জেলা উদীচীর সহ সভাপতি গণমাধ্যমকর্মী জাহাঙ্গীর আলম, হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সহ সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম মজনু, ওবায়দুল হক মুন্সী, অ্যাড. দীপঙ্কর বণিক,  যগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিক মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বাছিত, ইমরান হোসেন, সংগঠনের দোয়ারাবাজার উপজেলার সদস্য সচিব আবু তাহের, শান্তিগঞ্জ উপজেলার গণমাধ্যমকর্মী আবু সাঈদ, ছাতক উপজেলার সদস্য সচিব সুজন তালুকদার, শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব আহমেদ উসমান, দোয়ারাবাজার উপজেলা কমিটির সদস্য মোফাজ্জল হোসেন, ছাতক উপজেলার সদস্য অব্দুর রহমান প্রমুখ।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন,‘ হাওরের একমাত্র বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। সময় বৃদ্ধি করেও কাজ শেষ হয়নি। ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। পাহাড়ী ঢল ও আগাম বন্যার আশংকার কথা জানা যাচ্ছে। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা-উপজেলা প্রশাসনের টনক নড়ছে না। দ্রুত বাঁেধর কাজ শেষ না হলে দুর্বল বাঁধের কারণে হাওরের বোরো ফসল ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কোন কারণে ফসলডুবির ঘটনা ঘটলে সসকল দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।’
প্রসঙ্গত, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাবিটা নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর হাওরের বোরো ফসলরক্ষা ডুবন্ত বাঁধের কাজ শুরু ও ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ করার কথা। কিন্তু সময়মত কাজ শেষ না হওয়ায় ১৫ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। তবে এই বর্ধিত সময়সীমা প্রায় শেষ হওয়ার পথে কিন্তু জেলার বিভিন্ন হাওরে কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। অনেক এলাকায় এখনও বাঁধের কাজ চলমান রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের ছোট বড় ৯৫ টি হাওরের ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর বোরো জমি চাষাবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৪ লাখ মে.টন। যার বাজার মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকা। এসব জমির ফসল রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০২ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করতে কৃষকদের দিয়ে ৭১৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রকল্প বাস্তবায় কমিটি (পিআইসি)। ইতোমধ্যে পিআইসির অনুকূলে ৬৪ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। 
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, হাওরের বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ গড়ে ৯২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। তবে স্থানীয় কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যের সাথে বাস্তবতার মিল নেই। সময় শেষ হলেও বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। তড়িঘড়ি করে দুর্বল বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-১ মামুন হাওলাদার বলেন,‘ বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ প্রায় শেষের দিকে। ঝুঁকিপূর্ণ ক্লোজারগুলোর কাজ অনেক আগেই শেষ করা হয়েছে। সকল বাঁধের শতভাগ মাটির কাজ শেষ, এখন ঘাস লাগানোর কাজ চলছে। আগামী কয়েকদিন মৌসুমি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এখন বৃষ্টি হলে বাঁধ ও হাওরের ফসলের জন্যই ভাল। বৃষ্টির পানিতে বাঁধের ও ফসলের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা  নেই। তারপর আমরা সার্বক্ষনিক বাঁধের কাজ মনিটরিং করছি। ’
উল্লেখ্য, ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বার বার বোরো ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ২০১৭ সালে আকস্মিক ঢলে হাওরের অধিকাংশ ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে বৈশাখ মাসের আগেই হাওর পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। তৎকালীন সরকার জেলার দেড় লক্ষাধিক পরিবারকে এক বছর খাদ্য সহায়তা ও নগদ টাকা দিয়েছিল।

এই বিভাগের আরও খবর

Advertisement

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ