logo
ads

‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’ ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর যুবকের মৃত্যু

শাল্লা উপজেলা প্রতিনিধি

প্রকাশকাল: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পি.এম
‘আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি’  ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর যুবকের মৃত্যু

মৃত্যুর আগে প্লাবন সরকারের ফেসবুক পোস্ট। ছবি: সংগৃহিত

"আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি" বন্ধু হাবিবুর রহমানের যৌথ ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরেই প্লাবন সরকার (২২) নামের এক যুবেকর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন তিনি।

প্লাবন সরকার সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের মামুদনগর গ্রামের প্রভাত সরকারের ছেলে। তিনি মামুদনগর বাজারে টেইলার ব্যবসায়ী ছিলেন। বন্ধু হাবিবুর রহমান তার প্রতিবেশী মুদি দোকানদার।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই এই যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। পরে আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

এদিকে প্লাবনের আত্মহত্যার জন্য হাবিবুর রহমান দায়ী বলে দুই লাইনের দুইটি চিরকুটের ছবি পাওয়া গেছে। ওই দুই চিরকুটে লেখা রয়েছে, আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু হাবিবুর ভাই। হাতের লেখাটি প্লাবন সরকারের বলে জানিয়েছেন তার পরিচিতজনরা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক তিনটার দিকে প্লাবন সরকার তার নিজ ফেসবুক আইডিতে একই গ্রামের হাবিবুর রহমানসহ তার দুই জনের বিভিন্ন স্থানের যৌথ কয়েকটি ছবি দিয়ে ক্যাপশনে লিখেন "আমার মৃত্যুর একমাত্র কারণ শুধু তুমি"। এই পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই খবর পাওয়া যায় প্লাবন সরকার মারা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল বিকেলে প্লাবন সরকারের ফেসবুক পোস্টের পর হাবিবুর রহমান ও একই গ্রামের মঈনুল ইসলাম প্লাবন সরকারের বসত ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে তার লাশ নিচে নামান। পরে গ্রামের বাজার থেকে একজন পল্লী চিকিৎসককে সাথে নিয়ে প্লাবনের রক্ত সঞ্চালন আছে কি-না চেক করেন। পল্লী চিকিৎসক প্লাবনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলে হাবিবুর রহমান ও মঈনুল ইসলাম প্লাবনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে গিয়ে এলাকা ছাড়া হয়ে যান।

পল্লী চিকিৎসক প্রদীপ সরকার জানান, হাবিবুর, মঈনুল ও প্লাবন তিনজনই বাজারের ব্যবসায়ী। তাদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে হাবিবুর ও মঈনুল এসে প্লাবনদের বাড়িতে নিয়ে একটি জিনিস দেখানোর কথা বললে আমি তাদের সাথে যাই। মোটরসাইকেলে করে আমাকে নিয়ে যাওয়ার পর তারা প্লাবনের ঘরের পেছনের দিকে যায়। পরে দেখি তারা প্লাবনের লাশ নিচে নামিয়ে খাটের উপরে রাখে। আমাকে তারা বিপি (ব্লাড প্রেসার যন্ত্র) নিয়ে আসার কথা বলে। পরে বিপি লাগিয়ে দেখি তার রেসপন্স নাই। এই কথা বলতেই তারা দুই জন প্লাবনের মোবাইল ফোনটি নিয়ে  দ্রুত পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে হাবিবুর রহমান ও মঈনুলের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মঈনুলের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম জানান, আমার ভাই ওদের সাথে বাজারে হাঁস খাইত। প্লাবনের মৃত্যুর ঘটনার সাথে আমার ভাই জড়িত থাকলে তারও শাস্তি হোক। তবে আমরা জানতাম প্লাবন ও হাবিবুর রহমানের মধ্যে একটা খারাপ সম্পর্ক আছে। যা মুখে প্রকাশ করার মত না। কয়েক বার ওদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ হয়েছে।

প্লাবনের বড় ভাই প্রণয় সরকার বলেন, হাবিবুর, মইনুল ও প্লাবন এক সাথে চলাফেরা করত। হাবিবুরের কাছে প্লাবনের টাকা পয়সা ছিল। কয়েক দিন তারা প্লাবনকে মারপিট করেছে। গতকাল বিকেলে প্লাবনকে মেরে তার মোবাইল নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনার সঠিক তদন্ত চাই।

এবিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে প্লাবনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে । থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। তার মৃত্যুর পেছনে কি রহস্য রয়েছে এবং এটি প্ররোচিত আত্মহত্যা কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর

Advertisement

সর্বশেষ খবর

হাইলাইটস

বিশেষ সংবাদ