১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ পি.এম

এমপি কামরুলের ক্ষোভ - ১৪ নম্বর ইট-বালি দিয়ে কোন কাজ করা যাবে না

এমপি কামরুলের ক্ষোভ - ১৪ নম্বর ইট-বালি দিয়ে কোন কাজ করা যাবে না

 

‘আমার আসন থেকে বালি নিয়ে দেশের বড় বড় ভাল কাজ হয়। অথচ আমার এলাকার কাজ হবে ১৪ নম্বর বালি ও ১৪ নম্বার ইট দিয়ে, এটা হবে না। এই বালি ও ইট দিয়ে কোন কাজ করা যাবে না, সম্পুর্ন কাজ বন্ধ থাকবে। ভাল বালি ও ইট আনার পর কাজ হবে, নাহলে কাজ বন্ধ থাকবে।’

নিম্নমানের বালি ও ইট ব্যবহার করায় সুনামগঞ্জের মধ্যনগর বাজার-কাইতকান্দা সড়কের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।

আজ রবিবার দুপুরে মধ্যনগর উপজেলার মধ্যনগর-কাইতকান্দা সড়কের কাজ পরিদর্শনকালে নিম্নমানের বালি-পাথর ও ইট পাওয়ায় এসব সামগ্রী দিয়ে কাজ না করার জন্য এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ও প্রকল্পের ঠিকাদারকে বলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেন তিনি।

এসময় মধ্যনগর উপজেলা এলজিইডির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শামীম কন্ট্রাকশনের প্রকল্প প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।  

নিম্নমানের বালি ও ইট ব্যবহার করায় মধ্যনগর বাজার-কাইতকান্দা সড়কের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশার ভিডিও সংসদ সদস্যের নামের ফেসবুকে পেজে প্রচার করা হয়েছে।

ওই ভিডিওতে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলকে বলতে শুনা যায়, আমাদের এই অঞ্চল সবচেয়ে অবহেলিত ও নিপীড়িত। ৫৪ বছরেও আমাদের একটা রাস্তা হয় না। এখন একটা রাস্তা হচ্ছে , সেখানেও যদি দুই নম্বরি হয়, অনিয়ম হয়, আমাদের আর যাওয়ার জায়গায় কোথায় ? আমাদের চেয়ে অসহায় মানুষ বাংলাদেশের কোথাও নেই। কাজে অনিয়ম কোনভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না। নিম্নমানের বালি ও ইট দিয়ে কোনভাবেই কাজ করা যাবে না। আমার আসন থেকে বালি নিয়ে দেশের বড় বড় ভাল কাজ হয়। অথচ আমার এলাকার কাজ হবে ১৪ নম্বর বালি ও ১৪ নম্বার ইট দিয়ে , এটা হবে না। এই বালি ও ইট দিয়ে কোন কাজ করা যাবে না, কাজ বন্ধ থাকবে। ভাল বালি ও ইট আনার পর কাজ হবে, নাহলে  বন্ধই থাকবে।’

সংসদ সদস্য আরও বলেন, এলাকার লোকজন নানা অভিযোগ দিচ্ছিল, তাই আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে ভিজিট করেছি।  খুবই বাজে মানের বালি ও ইট দিয়ে কাজ চলছিল। তাই সব বাদ দেওয়া ও  কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। ঠিকাদারকে নতুন বালি ও ইট আনতে  বলেছি।  আমি বিশ্বাস করি সকলে মিলে যদি আমরা চেষ্টা করি, আমরা ভালো কাজ আদায় করে নেব। দুই আড়াই বছরের মধ্যে আমাদের সকল উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হবে। ’

মধ্যনগর উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩.৮ কিলোমিটার সড়কে মাটি ভরাট ও প্যালাসাইডিং এর কাজ বাস্তবায়ন করছে ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শামীম কন্ট্রাকশন। আগামী বছরের মার্চ মাসে কাজের শেষ মেয়াদ শেষ হবে। কিন্তু কাজ হয়েছে মাত্র ২১ ভাগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কে নিম্নমাণের বালু ও ইট দিয়ে কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের কাছে নালিশ করেন। অভিযোগ পেয়ে আজ রবিবার সরেজমিনে পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য। তিনি নিজে ইটের মান পরীক্ষা করেন ও বালু দেখেন। নিম্নমানের বালি ও ইট দেখতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

মধ্যনগর উপজেলা এলজিইডির অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী শাহাবুদ্দিন বলেন, নিম্নমানের বালি ও ইট ব্যবহার করায় ১৫ দিন আগেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বালি ও ইট পরিবর্তনের জন্য চিঠি দিয়েছি। গত পরশু দিন থেকে কাজ বন্ধ রয়েছে। আজ এমপি স্যার  পরিদর্শনকালে কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। বালি ও ইট পরিবর্তন না করলে কাজ বন্ধ থাকবে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শামীম কন্ট্রাকশনের প্রকল্প প্রকৌশলী জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি। কথা বলার জন্য ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও সাড়া পাওয়া যায়নি।