মদ খেয়ে হাসুয়া নিয়ে দুর্গা পূজা মণ্ডপের সামনে মাতলামি করতে গিয়ে পুলিশের তাড়া খেয়ে গায়ের গেঞ্জি ও হাসুয়া ফেলে খালের পানিতে পড়ে পালিয়েছে এক যুবক। আজ শুক্রবার বিকেলে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বড়ছড়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা মন্ডপের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘছে।
ওই যুবকের নাম ইমরান খান (৩৫) ,তিনি তাহিপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বড়ছড়া গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা মৃত জলিল খানের ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড়ছড়া গ্রামের ইমরান খান আজ বিকেলে মদ খেয়ে মাতলামী করছিল। হাসুয়ার মত ধারালো একটি অস্ত্র নিয়ে সে পূজা মন্ডপের সামনে ঘুরাফেরা করছিল ও অসংলগ্ন কথা-বার্তা বলছিল। বিষয়টি নজরে পড়ায় পূজা মন্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার ও পুলিশ সদস্যদের জানানো হয়। এরপর বড়ছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এস আই জুবায়ের আহমদ ইমরাম খানকে আটক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইমরাম খান হাসুয়া ও গায়ের গেঞ্জি ফেলে পাশের খালের পানিতে পড়ে পালিয়ে যায়।
বড়ছড়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস বলেন, বিকেলে আমি একটি কাজে পূজা মণ্ডপের বাহিরে ছিলাম। ফিরে এসে শুনেছি আমাদের গ্রামের ইমরান খান নামের একটি ছেলে মদ খেয়ে ধারালো হাসুয়া নিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা চলছিল। পরে পুলিশ তাকে আটক করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু সে হাসুয়া ও গায়ের গেঞ্জি ফেলে পালিয়ে গেছে।
বড়ছড়া সার্বজনীন দুর্গা পূজা মণ্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বড়ছড়া পুলিশ ফাঁড়ির এস আই জুবায়ের আহমদ বলেন, হাসুয়া বা কিরিছের মত একটি ধারালো জিনিস নিয়ে মন্দিরের সামনের রাস্তায় তাকে পাওয়া গিয়েছিল। স্থানীয় সবাই অভিযোগ করেছেন সে মদ খেয়ে মাতলামী করছিল। সে নাকি নিয়মিত মাদক সেবন করে। তাকে আটক করার জন্য চেষ্টা করার সময় এক হাতে কিরিছ ও অন্য হাতে তার গেঞ্জির কলারে ধরলে সে কিরিছি ও গেঞ্জি ফেলে পালিয়ে গেছে। কিরিছি ও গেঞ্জিটা ফাঁড়ির ইনচার্জের কাছে জমা দিয়েছি এবং বিস্তারিত জানিয়েছি।
বড়ছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো. আরেফীন বলেন, বড়ছড়ার ইমরাম খান নামের এক ছেলে আজ বিকেলে পূজা মন্ডপের সামনে সড়ক দিয়ে একটি হাসুয়া নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাকে আটকের চেষ্টা করেছিল। সে পালিয়ে গেছে, পুলিশ তার হাসুয়াটি জব্দ করেছে।
তিনি আরও বলেন, তার স্বজনরা জানিয়েছেন হাসুয়াটি তার চাচা হান্নানের। হাসুয়াটি ধারালো করে ঘাস কাটার জন্য নাকি সে নিয়েছিল। তার চাচাকে ডাকা হয়েছে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’