৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পি.এম

১২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত থেকে ৯ মাসে ৯৩১ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

১২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত থেকে ৯ মাসে   ৯৩১ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির) সরাইল রিজিয়নের আওতাধীন ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার ৪ টি সেক্টরের বিভিন্ন অভিযানে গত ৯ মাসে ৯৩১ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৫৯২ টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব পণ্য জব্দ করা হয়।

আজ বুধবার বেলা ১১ টায় বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নে ১৩টি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন, বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল একে এম জাকারিয়া কাদির।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে লে. কর্নেল একে এম জাকারিয়া কাদির বলেন,  সরাইল রিজিয়নের এক হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় চারটি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ইউনিটের ২১১টি বিওপির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছে বিজিবি। মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচার রোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে বিপুল মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে  ৯টি ম্যাগাজিনসহ ১১ টি পিস্তল, ৭ টি এয়ারগান, ৫ টি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬২ রাউন্ড কার্তুজ, ১৯ কেজি উচ্চ বিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার, ৩ লাখ ১২ হাজার ৯১০ পিস ইয়াবা, ১৩ হাজার ৮০৮ কেজি গাঁজা, ৬২ হাজার ৬৭৬ বোতল বিদেশি মদ, ১৫ হাজার ৫৮১ বোতল ফেনসিডিল, ৩ লাখ ৭৩ হাজার৫৭১ পিস  যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে । ৯ মাসে জব্দকৃত চোরাচালানী পণ্যের মূল্য ৯৩১ কোটি ২৭ লাখ ২২ হাজার ৫৯২ টাকা।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল একে এম জাকারিয়া কাদির বলেন, ১৩টি ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন অভিযানে ১৫ হাজার ৯০০ পাথর ও ৭ হাজার ৩০০ ফুট বালু জব্দ করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে ৩০৫ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে। সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, চোরাচালান ও অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচার প্রতিরোধ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবি কাজ করছে।

একে এম জাকারিয়া কাদির আরও বলেন, গত ৯ মাসে সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানুষের প্রয়োজনে সরাইল রিজিয়নের ১৩টি ব্যাটালিয়ন বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য, চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে জরুরি ত্রাণসামগ্রী দুর্গম এলাকাতেও পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত এলাকার তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সিলেট সেক্টরের উদ্যোগে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি চোরাচালানের বিরুদ্ধে সীমান্তবাসীর সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।