২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪০ পি.এম

শাল্লায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মিছিল, ৭ কিশোর কারাগারে

শাল্লায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে মিছিল, ৭ কিশোর কারাগারে

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় গভীর রাতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে মিছিল করার অভিযোগে সাত কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আটক সাতজনই স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে তাদের পরিবার।

শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১ টার দিকে তাদের আটক করা হয়।আটকরা হলেন শাল্লার হবিবপুর গ্রামের অনিক দাস (১৭) এবং ডুমরা গ্রামের বর্ষণ তালুকদার (১৭), সৌমিত্র দাস (১৬), অভি দাস (১৫), রুপম দাস (১৫), দ্বীপ্ত দাস (১৬) ও ইমন দাস (১৫)।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, আটক কিশোরদের কেউই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। তাদের মধ্যে বর্ষণ তালুকদার ও অভি দাস কলেজের শিক্ষার্থী। অন্যরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। নাশকতার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানোয় পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারের একটি দোকানে কয়েকজন কিশোর খাবারের আয়োজন করে। পরে তারা বাজারের সবজি বাজার হয়ে থানা সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেয়। এ সময় শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেল বিষয়টি দেখতে পান। তিনি তখন থানার পাশের শহীদ আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটছিলেন বলে জানা গেছে।

মিছিল চলাকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন-চারজনকে আটক করে। অন্যরা সেখান থেকে চলে গেলে পরে তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

আটক অভি দাসের বাবা বাদল দাস বলেন, “আমার ছেলে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। প্রথমে আমি ঘটনা জানতাম না। সকালে থানায় গিয়ে দেখি তারা আটক রয়েছে। এখন সুনামগঞ্জে যাচ্ছি।”

আটক রুপম দাসের মা হেপি দাশ বলেন, “আমার ছেলে নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞানের ছাত্র। ওরা একটি ক্লাবে ফুটবল খেলে। ফুটবলের প্রতি ওদের আগ্রহ বেশি। নতুন কুঁড়িতে ক্রিকেটে সে রানার্সআপও হয়েছে। ওরা বাজারে খাবারের আয়োজন করে খেয়েছে। পরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিক কোনো বিষয় বোঝার মতো বয়স বা জ্ঞান তাদের নেই। দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কেও তারা অবগত নয়। এখন ঘটনাটি নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের কেউ কেউ বলছেন, কিশোরদের কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটি তদন্তের বিষয়। তবে তারা শিক্ষার্থীদের বয়স, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, কিশোর বয়সের আবেগ বা ভুলের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তাদের ভবিষ্যৎ যেন একটি ঘটনার কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে না পড়ে, সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

তবে পুলিশের দাবি, আটক কিশোররা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সুহেল এফ টিভি কে বলেন, তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে তাদের থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।