কনটেন্ট ক্রিয়েটর দাবি করা সুনামগঞ্জের আলোচিত সেই সোনা মিয়া অরফে সোনাই পাগলার চুল কাটার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। সোনাই পাগলার পার্শ্ববর্তী গ্রাম দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম আজ দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। সোনাই পাগলার বাড়ি কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর, মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের বিষয়ে সোনাই পাগলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগের বিষয়ে সোনাই পাগলার সাথে কথা বলতে চাইলে তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সোনাই পাগলা এবং জগন্নাথপুর উপজেলা, বাগময়না গ্রামের মাখন মিয়া একটি ভিডিও কনটেন্ট প্রকাশ করেছেন। ভিডিওটি সাধারণ দর্শকের কাছে একটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও হিসেবে প্রতীয়মান হলে শুরু থেকেই ভিডিওটির কিছু বিষয় আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। ভিডিওটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে কি না তদন্তের প্রয়োজন।
অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, একটি ভিডিওতে দেখা ও শোনা যায়, সোনাই পাগলা তার চুল কাটার কারণে চিৎকার করছেন এবং মাখন মিয়া তাকে মারধর করছেন। ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজন মানুষ উপস্থিত থাকার পাশাপাশি কয়েকজনকে ভিডিও ধারণ করতেও দেখা যায়। ভিডিওতে মাখন মিয়াকে সোনাই পাগলাকে বলতে শোনা যায় যে, প্রায় এক বছর আগে দিরাইয়ে তাকে অপমান করা হয়েছিল এবং আজ তাকে বাজারে সুযোগ পেয়ে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দিরাইয়ে তার কোনো লোক নেই- এমন বক্তব্যও উক্ত ভিডিওতে দেখা ও শুনা যায়। এরপর সোনাই পাগলা ফেসবুক লাইভে মাখন মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে দেশবাসীর কাছে বিচারের দাবি জানান। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রসার লাভের পর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সেই ভিডিও ব্যাপক প্রচারের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। একই সাথে দিরাই থানা, কুলঞ্জ ইউনিয়ন, সংশ্লিষ্ট গ্রাম এবং সুনামগঞ্জ জেলার ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার গুরুত্বর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সেদিনের ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি ও প্রচার করা হয়েছে কি না, ভিডিওটির প্রকৃত নেপথ্য ঘটনা কী, ভিডিও ধারণ ও প্রচারের সঙ্গে কারা জড়িত। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য কী এবং এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট এলাকার মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি, অপমান বা বিভ্রান্ত করা হয়েছে কি না-এসব বিষয় প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন তিনি। অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগটি জগন্নাথপুর থানায় করতে হবে। কারণ ঘটনাস্থলটি জগন্নাথপুর থানা এলাকার। আইনগতভাবে আমরা কিছু করতে পারব না।
জগন্নাথপুর থানায় অভিযোগ করার বিষয়ে অভিযোগকারী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি অভিযোগ করেছি সোনাই পাগলার বিরুদ্ধে। তার বাড়ি দিরাইয়ের টংঘর গ্রামে। কারণ সে এলাকার মান-সম্মান ক্ষুন্ন করছে ।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে পূর্ববিরোধের জেরে সোনাই পাগলাকে মারধর ও জোর করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠে মাখন মিয়ার বিরুদ্ধে। জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে খাতুন কমপ্লেক্সের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। সেই দিনের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। পরে চুল কাটা ও মারধরের ভিডিওটি ফানি বলে দাবি করে ফেসবুকে ক্ষমা চেয়েছেন সোনাই পাগলা ও মাখন মিয়া।