১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৬ পি.এম

জগন্নাথপুরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারপিট করে কেটে দেওয়া হলো চুল

জগন্নাথপুরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারপিট করে কেটে দেওয়া হলো চুল

পূর্ব বিরোধের জের ধরে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে মারধর ও জোর করে মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির নাম সোনা মিয়া অরফে সোনাই পাগলা (৫০), তিনি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের টংঘর গ্রামের বাসিন্দা। 
আজ বুধবার বিকেলে জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে খাতুন কমপ্লেক্সের পেছনে এই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। 
অভিযুক্তের নাম মাখন মিয়া, তিনি রানীগঞ্জ এলাকার বাগময়না গ্রামের বাসিন্দা রানীগঞ্জ বাজারের পার্লার ব্যবসায়ী ও রানীগঞ্জ বাজারের ইজিবাইক স্ট্যান্ডের ম্যানেজার। খাতুন কমপ্লেক্সটি তার ফুফাতো ভাই একই গ্রামের শাহ গোলাপ মিয়ার। 
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সোনা মিয়ার মাথার লম্বা চুল কঁচি দিয়ে কেটে দিচ্ছেন মাখন মিয়া। এসময় তাকে লাথি মারতে দেখা যায়। 
ভিডিওতে সোনা মিয়াকে বলতে শুনা যায়, মাখন ভাই দয়া করেন ও মাখন ভাই আমরা চুলডা আর কাইট্টনারেবো ভাই। মাখন ভাই আমারে ছাইড়া দেইন। ঘটনার সময় সোনা মিয়া পড়নের ছেড়া কাপড় স্থানীয়দের দেখিয়ে বলেন, আপনারা দেখইন, আমিতো কইরাম দেইক্কা দিমু, একদিন ইতা শক্তি আমিও খাটাইমু যা। এক বছর আগে তার সাথে একটা ঘটনা করছিলাম। সোনা মিয়া ক্ষুব্দ হয়ে আর বলেন, আমার বাড়ি দিরাই, এর হিসাব পাইবে তুই। 
এরপর বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে সোনা মিয়া ফেসবুক লাইভে বলেন, রানীগঞ্জের মাখন গুন্ডা আমার চুল কাইট্টা দিছে। এক বছর আগে দিরাইয়ে মাখনের লগে একটা বিষয় অইছিল, মুরব্বীরা শেষ কইরা দিছঅইছন। আমি রানীগঞ্জে বাজারে টমটম থেকে নামার পর চা খাওয়ার সময় মাখন আমার চুল কাইট্টা দিছে। 
অভিযুক্ত মাখন মিয়া বলেন, সোনা মিয়ার সাথে আগে আমার পরিচয় ছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসের এক রাতে আমাকে দিরাইয়ের দাওয়াত করে নিয়ে সে আর ৫-৭ জন মোটা অংকের চাঁদা দাবি ও নির্যাতন করেছিল। ঘটনাটি আমার মনে খুব কষ্ট দিয়েছে। বহুদিন পর আজ তাকে পেয়েছিলাম। তার সাথে যে আচরণ করেছি সেটা ঠিক হয়নি, রাগের মাথায় এসব করেছি। রাগ কমার পর বুঝতে পেরেছি আমি অপরাধ করেছি। আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এখন সে যদি আইনগত ব্যবস্থা নেয় নিবে।’ 
জগন্নাথপুর থানার ভারাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এমন কোন ঘটনা আমাদের নজরে পড়েনি। পুলিশকে কেউ জানায়নি বা কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।