সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বংশীকুন্ডা বাজারে সাপ্তাহিক পশুর হাট চালু হয়েছে।
আজ শনিবার সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের ইজারা বন্দোবস্ত দেওয়া
এই হাটের কার্যক্রম শুরু হয়। সপ্তাহের প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে হাট বসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উদ্বোধনের দিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক পশু নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অংশগ্রহণে হাটে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা যায়।
হাট চালু উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল ১০টায় বাজার প্রাঙ্গণে এক মতবিনিময় সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
এতে বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. সুজন মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. সাহেবুর আলম, সহ-সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. ইনামুল গনি তালুকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সওদাগর মিয়া, নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বিএনপি নেতা জাইদুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, যুবদল নেতা সাইকুল ইসলামসহ গরু-ছাগল খামারি, ব্যবসায়ী ও মাংস বিক্রেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
হাট কমিটি সূত্রে জানা গেছে, দূর-দূরান্ত থেকে আগত ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপত্তা ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা, জাল নোট শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এবং পশু অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
হাট ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীলরা আরও জানান, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নজরদারি থাকবে এবং কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।
ক্রেতা শামিম মিয়া বলেন, নতুন এই হাটের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক গরু নিয়ে ব্যবসায়ীরা এখানে আসায় ক্রেতাদের জন্য পছন্দমতো পশু বেছে নেওয়ার ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাটে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা সন্তোষজনক হওয়ায় কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত এখানে আসতে চাই।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, নতুন এই পশুর হাট এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।
হাট পরিচালনায় ইজারাদারের পক্ষে দায়িত্ব পালন করছেন মো. নেকবর হোসেন ও মো. শহীদ মিয়া।
তারা জানান, নতুন এই হাটকে ব্যবসাবান্ধব ও আকর্ষণীয় করে তুলতে ক্রেতাদের কাছ থেকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফি নেওয়া হলেও বিক্রেতাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা নেওয়া হচ্ছে না। এতে দূর-দূরান্তের খামারি ও ব্যবসায়ীরা সহজেই অংশগ্রহণ করতে পারছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, হাটটি দিন দিন আরও জমজমাট হয়ে উঠবে।