সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় দাড়াইন নদীর তীরবর্তী হাওর রক্ষা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে আদালতের জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাতে গোপনে কাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী জমির মালিক পিকলু তালুকদার জানান, তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সংশ্লিষ্ট রেকর্ডভুক্ত জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করেন। এ অবস্থায় থানা প্রশাসন উভয় পক্ষকে ওই এলাকায় কোনো ধরনের কাজ না করা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রাতের আঁধারে বাঁধ নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেছেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে শাল্লা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তারা জানিয়েছে, বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী উভয় পক্ষকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আফজাল মিয়া বলেন, সংশ্লিষ্ট স্থানে আগে থেকে কিছু ব্লক ও নির্মাণসামগ্রী রাখা ছিল। সেগুলো সরানোর উদ্দেশ্যেই রাতে কাজ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারির পর মূল নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং রাতে কেবল সংরক্ষিত মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শাল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক রাতের বেলায় কাজ করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, জমির মালিক আপত্তি দেওয়ার পর এবং আদালতের নির্দেশনার পর সেখানে কোনো ধরনের কাজ হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আদালত যেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন, সেখানে কোনো পক্ষই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারবে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড, সুনামগঞ্জ (পওর-২)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আদালতের অনুমতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো ধরনের নির্মাণ বা মালামাল সরানোর কাজও করা যাবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।