সুনামগঞ্জের শাল্লায় থানার কাছে শাল্লা সরকারি কলেজ রোডে প্রকাশ্য দিনেদুপুরে এক নিরীহ লোকের বসতবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় শতশত লোক দাঁিড়য়ে থেকে এই দৃশ্য দেখলেও কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পানিনি। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শাল্লা থানার পকেট গেটের সামনে দিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে থানা থেকে প্রায় ২০০ মিটারের দূরে এমন ঘটনা ঘটে।
তবে শাল্লা থানার ওসি জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সরকারি বন্দোবস্তের এই ভূমি নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, যারা ওই বাড়িতে ছিলেন তারাই আছেন।
স্থানীয়রা জানান, আব্দুল মন্নান মিয়ার গ্রামের বাড়ি উপজেলার কান্দিগাঁও গ্রামে, বর্তমানে তিনি উপজেলা সদরের ওই বাড়িতে বসবাস করেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শাল্লা উপজেলার ইয়ারাবাদ গ্রামের বাসিন্দা শাহীদ আলী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি (ক্লার্ক) ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে থানার কাছের আব্দুল মন্নান মিয়ার বসতবাড়ি ভাংচুর, লুটপাট করে। ভাংচুরকারীদের হাতে দেশীয় অ¯্র থাকায় কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।
জানা যায়, আব্দুল মন্নান উপজেলা প্রশাসনের কাছে থেকে ওই জায়গা বন্দোবস্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। এতে নজর পড়ে ইকবাল হোসেনের। তিনি এর আগেও কয়েকবার বাড়ি দখলের চেষ্টা করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ইকবাল বেশি বেপোরোয়া হয়ে উঠেন। এই বাড়ির জায়গা নিয়ে কয়েকদিন আগে থানায় দুই পক্ষকে নিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ইকবাল হোসেন তার কোনো কাগজপত্র দেখতে রাজী হয়নি। পরে নিরুপায় হয়ে তিনি সুনামগঞ্জের উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে যান। এদিকে বাসা খালি থাকার সুযোগে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়।
মন্নান মিয়ার স্ত্রী মঞ্জু চৌধুরী বলেন, আজ বৃহস্পতিবার আমার বাসায় কোন পুরুষ লোক ছিল না। সেই সুযোগে ইকবাল আর একদল লোক নিয়ে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমাদের বাসা ভাংচুর করে এবং আমার ছেলে বউদের ৭-৮ ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায়। এমনকি শিশু বাচ্চাসহ বাসায় থাকা মহিলাদের উপর আক্রমণ চালায়। এ ব্যপারে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিক ফোন দিলেও রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থানার কাছে নয়, বাজারের এক মাথায়। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা ১০-১৫ মিনিট এখানে ছিল। শুনেছি সরকারি বন্দোবস্তের এই জায়গা নিয়ে নাকি দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। লিখিভত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস জানান, আমাকে একজন ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে আমি তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবগত করি। বন্দোবস্তের এই জায়গার বিষয়টি কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।