তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের রফিনগর ও সাদিরপুর গ্রামে পৃথক সংঘর্ষে রফিনগর গ্রামের গিয়াস উদ্দিন (৫৫) ও সাদিরপুর গ্রামের আহাদ নুর (২৬) নিহত ঘটনায় প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। দুইটি গ্রামে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষে নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার রাতে ও গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দুইটি গ্রামে প্রতিপক্ষের প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে নিহতের স্বজনেরা। খবর পেয়ে থানা থেকে পুলিশ গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হয়। রফিনগর গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গতকাল বুধবার বিকেলে সাদিরপুর গ্রামের হোসাইন আহমেদের ধান শুকানোর খলার উপর দিয়ে জোর করে মাটি পরিবহনের ট্রলি নিয়ে যাওয়া নিয়ে একই গ্রামের আব্দুল লতিফের লোকজন। পরে এই নিয়ে গ্রামের সমানে দুইপক্ষের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে আব্দুল লতিফের ভাতিজা আহাদ নুর (২৬) গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সাদিরপুর গ্রামের হোসাইন মিয়া বলেন, আমাদের লোকজন সবাই বাড়ি ছাড়া। এই সুযোগে গ্রামের প্রতিপক্ষের লোকজন গতকাল বুধবার রাতে ও আজ সকালে আমাদের অন্তত ৫০-৬০টি বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগী, ধান-চাল, আসবাবপত্রসহ অন্তত ৩ কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ যাওয়ার পর লুটপাট বন্ধ হয়েছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার রফিনগর গ্রামের আশরাফুল ইসলামের চাচাতো ভাই আব্দুল জিহাদের একটি রাজহাঁস নিখোঁজ হওয়া নিয়ে গ্রামে বিরোধের সৃষ্টি হয়। একই গ্রামের সফিক মিয়ার পক্ষের বাবলু মিয়াকে হাঁস চুরির ঘটনায় দায়ী করেন আব্দুল জিহাদ। এ নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার সন্ধ্যার দিকে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। ঘন্টাব্যাপি চলা সংঘর্ষে বাবলু মিয়ার ফুফাতো ভাই মো. গিয়াস উদ্দিন (৫৫) বুকে টেঁটা বিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন মো. গিয়াস উদ্দিনসহ আহতদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রফিনগর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, গিয়াস উদ্দিনের লোকজন বুধবার গভীর রাতে আমাদের ৩০-৪০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে। সবার ঘরের সবকিছু নিয়ে গেছে। গরু-বাছুর, হাঁস-মুরগী, ভিটি, ফ্রিজ, ট্রলি, ট্রাক্টর, মোটরসাইকেল, ধান-চাল কোনকিছুই নেওয়ার বাকী রাখেনি। প্রায় ৩ কোটি টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। আমাদের পরিবারের মহিলা ও শিশুরা রাতেই প্রাণভয়ে অন্যদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরীকে কয়েক বার ফোন দিলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বুধবার দিরাইয়ের রফিনগর ও সাদিরপুর গ্রামের পৃথক সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে সাথেসাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। রফিনগর গ্রামের নিহতের ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনার জেরে প্রতিপক্ষের বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এলাকায় পুলিশ রয়েছে, খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।