হাওর রক্ষা বাঁধে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে গণ-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজারে এ গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সদর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ এর সভাপতিত্বে ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলার সদস্য সচিব শাহা আলম।
বক্তব্য রাখেন জোয়ালভাঙ্গা হাওরের কৃষক শওকত মিয়া, মলিন্ড বিশ্বাস, খরচার হাওরের কৃষক বিপুল কুমার দাশ, ওয়াজেদ আলী, আব্দুল কাদির, বড়বিলের সাজিবুর রহমান, ইসলামগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি গোলাম রসুল, সাধারন সম্পাদক সহিকুল ইসলাম।
অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, সহ সভাপতি ওবায়দুল মুন্সী।
বক্তব্য রাখেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন গৌরারং ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক শাকিল মোত্তাকিন, সদস্য সাদিকুর রহমান, সাহিবুর রহমানসহ প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পিআইসি গঠন থেকে শুরু করে কাজের প্রাথমিক পর্যায়েই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিয়মান ছিলো। অতিরিক্ত বরাদ্দ, নিম্নমানের কাজ এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন নিয়মিতভাবে কাজ করছে।
তারা আরও জানান, বিভিন্ন পিআইসি পরিদর্শন করে অনিয়মের তথ্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে কিন্তু দৃশ্যমান কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।
পাশাপাশি বক্তারা বলেন জোয়ালভাঙা হাওরে জলাবদ্ধতা দুর করতে হবে, জিরাক নদী দ্রুত খনন করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মানের ফলে সুনামগঞ্জে হাজার হাজার হেক্টর বোরো ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে, কৃষকরা সেই ধান আর রক্ষা করতে পারবেন কিনা শঙ্কায় আছেন। এই অপরিকল্পিত বাঁধ ও অপ্রয়োজনীয় পিআইসির কারণে কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যারা এই অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করতে হবে, এবং সুনামগঞ্জ থেকে তাদের অপসারণ করতে হবে।