লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাবার পথে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া অভিবাসন প্রত্যাশী সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রবিবার সুনামগঞ্জের দিরাই, জগন্নাথর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার নিহত ১২ যুবকের শোকাহত পরিবারের কাছে প্রধানমন্ত্রী তারকে রহমানের উপহার সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেন সুনামগঞ্জের সংসদ্য ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
প্রথমে দুপুরে জগন্নাথপুর উপজেলা পরে বিকেলে দিরাই ও দোয়ারাবাজার উপজেলায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের হাতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী ও অর্থ তোলে দেন সংসদ সদস্যরা।
এসময় সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. আব্দুল হকসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংসদ সদস্যরা বলেন, ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের যুবকদের মৃত্যুর ঘটনার খবর শুনেই প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন, তাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সমবেদনা জানাতে এবং নিহত যুবকদের পরিবারের পাশে থাকতে। ‘
তাঁরা আরও বলেন, দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে কেউ যেন অবৈধপথে বিদেশে না যায় এবং এমন ঝুঁকি না নেয়। বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগেই ঘোষণা দিয়েছে, ৫ বছরের মধ্যে ১ কোটি মানুষকে বিদেশে পাঠানো হবে। সেই কার্যক্রম ইতোমধ্যে দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে। ধৈর্য ধরুন, সরকার জি-টু-জি পদ্ধতিতে বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে গ্রীস যাবার পথে সাগরে ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটে, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে ভূমধ্যসাগরে পাচারের বোটেই তারা প্রাণ হারান। পরে তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জের মারা যাওয়া যুবকরা হলেন, দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০), জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের সালিকুর রহমানের ছেলে সুহানুর রহমান এহিয়া (২২), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তায়েফ মিয়া (২৪)।
জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), টিয়ারগাঁও গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া (২০), ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২৩), ছিলাউড়া গ্রামের সামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক (২২) ও দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম আহমদ (২৪) ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের ফয়েজুর রহমানের ছেলে মো. ফাহিম অভ্র (২০)।