৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৫ পি.এম

১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ডাকুয়া হাওরের বাঁধ কাটার অভিযোগ

১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ডাকুয়া হাওরের বাঁধ কাটার অভিযোগ

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারি উপেক্ষা করে সদর উপজেলার ডাকুয়ার হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার দুপুরে সদর উপজেলার কান্দাগাঁও গ্রামের কাছে এই ঘটনা ঘটে। এসময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।
জানা যায়, ডাকুয়ার হাওরের বাঁধ কাটা নিয়ে মোহনপুর ও গোলেরগাঁও-নোয়াগাঁও এলাকার কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় গতকাল শনিবার সকালে দুই পক্ষের লোকজনকে নিয়ে জরুরি সভায় বসেছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুনজিত কুমার চন্দ। বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন এবং উত্তেজনা বিরাজ করায় ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু গোলেরগাঁও-নোয়াগাঁও এলাকার লোকজন জোরপূর্বক বাঁধ কেটে দেন। বাঁধ কাটা ও রক্ষা করা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। মোহনপুর গ্রামবাসীর অভিযোগ- কাঠইর ইউনিয়নের গোলেরগাঁও, নোয়াগাঁও কান্দাগাঁও ও উলুতুলু গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ দেশীয় অ¯্র নিয়ে জোর করে ডাকুয়ার হাওরের বাঁধ কেটে দিয়েছে। এতে মোহনপুর এলাকার কৃষকদের বোরো ফসল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন, হাওরের বাঁধ কাটতে বাধা দেওয়ায় আমাদের গ্রামের লোকজনের ওপর হামলা করা হয়েছে। আমাদের গ্রামের আলী হোসেন, আফিজ মিয়া, শুকুর আলী, আজিজুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলমসহ ১০ জন আহত হয়েছে।  
অন্যদিকে নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ইমাম হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানিতে আমাদের হাওরের ধান তলিয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা হাওরের পানি নিস্কাশনের জন্য বাঁধ কেটে দিতে গিয়েছিলাম। মোহনপুর গ্রামের লোকজন আমাদের উপর হামলা করেছে। আমিসহ আমাদের পক্ষের ৬ জন আহত হয়েছি। আমাদের লোকজন বাঁধ কেটে দেওয়ার চেষ্টা করছিল কিন্তু তারা বাঁধা দিয়েছে। এই বাঁধ কাটলে তাদের কোন সমস্যা হয় না, কারণ তাদের হাওরের পানি বের হওয়ার রাস্তা আছে।‘
তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারির বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। এই বিষয়টি আমাদেরকে কেউ বলেননি বা জানায়নি। জানলে আমরা বাঁধের কাছে যেতাম না।  
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, হাওরের বাঁধ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। শুনেছি এক পক্ষ জোর করে বাঁধ কেটে দিয়েছে। বিষয়টি দেখার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।