উত্তর আফ্রিকার লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাবার পথে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে পড়ে অভিবাসন প্রত্যাশী সুনামগঞ্জের ১২ যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় চার মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার রাত ১২ টায় চার মানব পাচারকারীর নামোল্লেখ করে মামলাটি করেছেন দিরাই উপজেলা জগদল ইউনিয়নের বাসুরি গ্রামের মারা যাওয়া সোহানুর রহমান এহিয়ার বাবা ছালিকুর রহমান।
দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী মামলা গ্রহণের সত্যতা স্বীকার করে বলেন ,সোমবার রাতে চার মানব পাচারকারীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাবে না।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মামলায় আসামি করা হয়েছে, দিরাই উপজেলার জগদল গ্রামের ওয়াহিদ আলীর ছেলে হাফিজ সালেহ আহমদ (৩৫), জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার কবিরনগর গ্রামের হেলাল উদ্দিনের জসিম উদ্দিন (৪০), সুনামগঞ্জ সদরের হাফিজ আশরাফুল ইসলাম (৩৭), অন্য একজনের নাম জানা যায়নি। তিন জনের নাম নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী ছালিকুর রহমান।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে গ্রীস যাবার পথে সাগরে ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটে, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন।
খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে ভূমধ্যসাগরে বোটেই তারা প্রাণ হারান। পরে তাদের লাশ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রায় খাবার ও পানির সংকটে একে একে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরে অনেকেই মারা যান। পাচারকারীদের নির্দেশে সবার মৃতদেহ ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
মামলার বাদী ছালিকুর রহমানের অভিযোগ দিরাই উপজেলার মানবপাচারকারী হাফিজ সালেহ আহমেদের সঙ্গে জনপ্রতি ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্যোগ নেন। অন্যান্য অভিযুক্তরা এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বড় ও নিরাপদ নৌকায় করে যাত্রার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়। পথে অনাহারে তার ছেলেসহ আরও অনেকের মৃত্যু হয়।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে মারা যাওয়া যুবকরা হলেন, সুনামগঞ্জের
দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারপাশা গ্রামের আবু সর্দারের ছেলে নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩২), মৃত ইসলাম উদ্দীনের ছেলে মো. সাহান এহিয়া (২২), আব্দুল গণির ছেলে মো. সাজিদুর রহমান (২৬), রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪০), জগদল ইউনিয়নের বাসুরী গ্রামের সালিকুর রহমানের ছেলে সুহানুর রহমান এহিয়া (২২), করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. তায়েফ মিয়া (২৪)।
জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আমিনুর রহমান (৩৫), টিয়ারগাঁও গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে শায়ক মিয়া (২০), ইছগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে আলী আহমদ (২৩), ছিলাউড়া গ্রামের সামছুল হকের ছেলে ইজাজুল হক (২২) ও দুলন মিয়ার ছেলে নাঈম আহমদ (২৪) ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নের কবিরনগর গ্রামের ফয়েজুর রহমানের ছেলে মো. ফাহিম অভ্র (২০)।