সুনামগঞ্জের শাল্লায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে চেয়ারম্যান ও এক ইউপি সদস্যের (মেম্বার) মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু এবং পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহদেব দাসের মধ্যে পাওনা টাকা আদায় নিয়ে হাতাহাতির এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়টি শাল্লা উপজেলা সদরে অবস্থিত।
হাতাহাতির ঘটনায় আহত হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু ও তার ভাই জুয়েল চৌধুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক।
চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরীর অভিযোগ করে জানান, ইউপি সদস্য সহদেব দাসের কাছ থেকে তিনি ২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। পরে টাকা ফেরত চাইতে এসে সহদেব দাস কথা কাটাকাটি করেন এবং তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে তিনি আহত হয়ে পড়েন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও একই ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মধু দাস বলেন,‘সহদেব মেম্বার চেয়ারম্যানের গায়ে হাত তুলেছেন এটা সত্য। পরে আমরা দুই জনকে এসব থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করি।’
তবে ইউপি সদস্য সহদেব দাস উল্টো অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি চেয়ারম্যানের কাছে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা পাই। সেই টাকা চাওয়া মাত্রই চেয়ারম্যান আমাকে মারধর করেছে। পরে বাজারের একটি ঘরে আমি আশ্রয় নিলে চেয়ারম্যানের লোকজন আমাকে হামলা করার জন্য খোঁজাখুজি করেছে। এরপর আমি বাড়িতে চলে এসেছি।’
শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজিব বিশ্বাস বলেন,‘বাহাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও তাঁর ভাই জুয়েল চৌধুরী আহত অবস্থায় হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুই জনই হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিকুজ্জামান বলেন,‘ বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’