সুনামগঞ্জ শহরের আলফাত স্কয়ার এলাকায় রবিবার রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দোকান পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কে প্রধান করে ৭ বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। আজ সোমবার দুপুরে এই কমিটি গঠন করেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের জন্য এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুজিত কুমার চন্দ, সদস্যরা হলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সুপারের মনোনীত একজন প্রতিনিধি, সিভিল সার্জনের মনোনীত একজন প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিলেটের বিভাগীয় উপ পরিচালক মনোনীত একজন প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক ও সুনামগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের মনোনীত একজন প্রতিনিধি।
আজ সোমবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ও সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সামছুল হক জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করে জানান, অগ্নিকাণ্ডের ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা সন্তোষজনক ছিল না, একই সাথে সক্ষমতার প্রশ্ন তোলেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার দাবি জানান।
ব্যবসায়ীরা জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যদি সঠিকভাবে কাজ করতেন তাহলে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমান আরও কম হত। সাধারণ মানুষের হাতে যদি ফায়ার সার্ভিসের মতো যন্ত্রপাতি থাকত তাহলে আরও আগেই আগুন নেভাতে পারতেন।
ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসককে বলেন, অগ্নি নির্বাপক গাড়ির পানির পাইপে অনেক লিকেজ ছিল। ১০ মিনিট পর পর তাদের পাম্প নষ্ট হয়েছে। অদক্ষ কর্মী ও ত্রুটিপূর্ণ যান্ত্রিক ব্যবস্থার কারণে সময়মত পানি দেওয়া হয়নি। এ কারণে ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে।
তবে সুনামগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার (ইনচার্জ) জালাল আহমদ বললেন,‘ আমাদের কর্মীরা সাধ্যমত কাজ করেছে। আমরা তিন দিক থেকে পাইপ লাগিয়ে অগ্নি নির্বাপনের কাজ করেছি। পেছন দিকে কালীবাড়ি’র পুকুর থেকে দু’টি পাইপ লাগানো হয়। সামনের দিকে একটি পাইপ লাগিয়ে পানি ছিটানো হয়। মানুষ সামনের অংশের কাজ দেখেছে। পেছনের দিকের কাজ অনেকের চোখে পড়েনি। কাজ করার সময় কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়, পানি পেতে থানার পুকুরে পাইপ ফেললে কেবল মাটি ওঠতে থাকে। উৎসুক মানুষের ভিড়ের কারণেও কাজে বিঘœতা ঘটেছে।
এসময় জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন,‘ সুনামগঞ্জবাসীর নিরাপত্তা ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাবেন।
প্রসঙ্গত, রবিবার রাতে শহরের আলফাত স্কয়ার এলাকার শহীদ মিনারের বিপরীতে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। একটি জুতার দোকান থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, রবিবার রাত ১১ টার দিকে ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার হক সুপার মার্কেটের পেছনের একটি জুতার দোকানে প্রথমে আগুন লাগে। পরে পুরো মার্কেটে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই মার্কেটের ফার্মেসী, জুতার দোকান, ইলেকট্রনিক দোকানসহ বেশ কয়েকটি দোকান ও কয়েকজন ব্যবসায়ীর দোগাম আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সুনামগঞ্জ জেলা সদরের প্রধান তিনটি ইউনিটসহ ৫টি ইউনিটের প্রচেষ্টায় এবং পুলিশ ও বিজিবির সহযোগিতায় দুই ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।