২৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৪ পি.এম

যাদুকাটা নদীর তীর থেকে বালু উত্তোলনের সময় পাড় ভেঙে বালু চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

যাদুকাটা নদীর তীর থেকে বালু উত্তোলনের সময় পাড় ভেঙে বালু চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় পাড় ভেঙে পড়ে বালু চাপায় লিয়াকত আলী (৩৯) নামের এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। আজ রবিবার সকালে যাদুকাটা নদীর পশ্চিম পাড় বাদাঘাট ইউনিয়নের ঘাগটিয়া বাঁশ বাগান এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
‎লিয়াকতের সাথে থাকা অন্য শ্রমিকরা আধঘন্টা চেষ্টার পর বালুর নিচ থেকে তাকে মৃত উদ্ধার করে। নিহত শ্রমিক লিয়াকত পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে। ‎
স্থানীয় এলাকাবাসীর ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আজ বুধবার ভোর সকাল ৬ টার দিকে যাদুকাটা নদীর পশ্চিম তীরের ঘাগটিয়া এলাকার ঘাগটিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদের ছেলে তালহা (৩২), তার ভাতিজা তানশি (২৯) এর নেতৃত্বে অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন চলছিল। এসব বালু তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের আমবাড়ী গ্রামের জাহাঙ্গীর সর্দারের বেশ কয়েকটি ছোট নৌকায় তোলা হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ করেই নদীর পাড় ভেঙে বালু শ্রমিক লিয়াকত আলীর উপর পড়লে সে বালুর নিচে চাপা পড়ে যায়।  পরে লিয়াকতের সাথে কথা অন্যান্য শ্রমিকেরা প্রায় আধাঘন্টা চেষ্টার পর তাকে মৃত উদ্ধার করে তার বাড়িতে সিরাজপুর নিয়ে ‎যায়। ‎
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তানশি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,' এই জায়গা আমার না, এইডা মুশালমের জায়গা। এই জায়গা নিয়া আলী হায়দার ও মুশালমের দলিল নিয়া দন্দ্ব চলছে কিন্তু দখলে আছে মুশালম। আমরা কেউ এর সাথে জড়িত না।'
অভিযুক্ত তালহা বলেন, ' এখন বিএনপি সরকারে থাকায় আমরা কিছু না করলেও বিএনপি করায় আমাদের নাম চলে আসে। ভাই এইটা মুশালমের জায়গা।  কালকে বাঁশের মুড়া তুলে পাড়েই রাখছে মুশালম। এইগুলা না সরিয়েই ভোরে নৌকা লাগাইছে। পরে মুড়ার বাড়ে পাড ভাইঙ্গা এই ঘটনা ঘটেছে।  রানু মেম্বারের পাড় কাটে, হাজার হাজার মানুষ পাড় কাটে। আমার বিএনপি করি দেখে মানুষ পট করে আমাদের নাম বলে দেয়।
মুশালম তার উপর আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে বলেন,' আমার জায়গার উপর অভিযোগ আসছে এবং আমি ৫ আগষ্টের পর নদীর পাড়েই যেতে পারি না এটা ওসি স্যারও জানেন। আমাদের জায়গায় তারাই ( তালহা) জোর জুলুম কইরা চাইতাছে। এটা এলাকার সাবাই জানে। এখন বাঁচার জন্য আমার নাম বলছে।
‎ এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  আমিনুর ইসলাম বলেন, নদীর পার ধসে কেউ মারা গেছে বলে জানা নেই। কেউ কোন অভিযোগ করেননি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।