২৯ মার্চ ২০২৬, ০২:৪১ পি.এম

ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন সাগরেই শেষ

ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন সাগরেই শেষ

“আমার ছেলেকে দালাল মেরে ফেলেছে, তোমরা আমার পোলারে আইন্না দেও,আমি আমার পেলারে দেখতাম চাই, তার লগে কতা কইতাম চাই, কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন,  জগন্নাথপুর উপজেলার চিলাউড়া গ্রামের নাঈম মিয়ার মা আঁকি বেগম।  

নাঈমের বাবা দুলন মিয়া বলেন, ইছগাঁও গ্রামের দালাল আজিজুল ইসলামের সঙ্গে গ্রিসে পাঠার জন্য ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে জানুয়ারি মাসে লিবিয়া যায় আমার ছেলে। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর গ্রিসের গেম দেওয়ার কথা বলে আরও ৫ লাখ টাকা দাবী করে দালাল। তাঁর দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করার পরও গ্রিসে পাঠাতে টালবাহানা করে। অবশেষে ২১ মার্চ গেম দেওয়া হয়। কথা ছিল গেম দেওয়ার আগে আমাদেরকে জানানো হবে। কিন্তু আমাদের জানানো হয়নি। শনিবার জানতে পারি সাগরে আমার ছেলে মারা গেছে এবং তার লাশ সাগরেই ফেলে দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় তিনি দালালের বিচার দাবী করেন।

শুধু নাঈমের পরিবারই নয়, জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ যুবকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে দালাল চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের ফাঁদে দেশের হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে। অকালে প্রাণ হারাচ্ছে শত শত যুবক। দ্রুত সব দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড.  মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া, বলেছেন, ভূমধ্যসাগরে যারা মারা গেছেন তারা বৈধপথে না যাওয়া তাদের কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করছি। ইতোমধ্যে যাদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে তাদের বাড়িতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগন যাবেন এবং যাদেরকে টাকা দেওয়া হয়েছিল তাদের তথ্য সংগ্রহ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।