১৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৫ পি.এম

ঈদের আনন্দ নেই আলীনুর-হাজেরার সংসারে, ভিক্ষার টাকায় কোনোমতে চলছে জীবন

ঈদের আনন্দ নেই আলীনুর-হাজেরার সংসারে, ভিক্ষার টাকায় কোনোমতে চলছে জীবন

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে, চারদিকে উৎসবের আমেজ। কিন্তু সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে অসহায় আলীনুর (৬০) ও হাজেরা বেগম (৪৫) দম্পতির সংসারে নেই ঈদের কোনো আনন্দ। ভিক্ষার টাকায় কোনোভাবে চলছে তাদের ছয় সদস্যের পরিবার, তাও নিয়মিত নয়।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের রতনশ্রী গ্রামের এই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আলীনুর। তিনি তাহিরপুর সদর বাজারে কুলির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এখন আর কাজ করতে পারেন না। ঠিকমতো হাঁটাচলাও করতে পারেন না, কথাও বলতে কষ্ট হয়।
পরিবারের হাল ধরতে বাধ্য হয়ে স্ত্রী হাজেরা বেগম তিন বছরের শিশুকে কোলে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন। দিন শেষে যা পান, তা দিয়েই কোনোমতে চাল-ডাল কিনে পরিবার চালান। তবে যেদিন ভিক্ষা জোটে না, সেদিন উপোসেই কাটে তাদের দিন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন তারা। ঘরে নেই কোনো খাট বা আসবাবপত্র। মাটিতে বস্তা বিছিয়েই চার সন্তানকে নিয়ে রাত কাটাতে হয়। তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বয়স ১০ বছরের নিচে। স্কুলে যাওয়ার বয়স হলেও দারিদ্র্যের কারণে তাদের শিক্ষার সুযোগ হয়নি।

ঈদকে ঘিরে অন্যদের ঘরে যেখানে নতুন কাপড় আর আনন্দের প্রস্তুতি, সেখানে আলীনুর-হাজেরার পরিবারে নেই সেই সামর্থ্য। শিশুদের জন্য নতুন কাপড় তো দূরের কথা, খাবার জোগাড় করাই হয়ে উঠেছে কঠিন। ফলে পুরোনো ছেঁড়া কাপড়েই ঈদ কাটাতে হবে তাদের।
অসুস্থ আলীনুর কষ্ট করে বলেন, আমি কোনো কাজ করতে পারি না। তিনবেলা ঠিকমতো খেতেও পারি না। সরকার অসহায়দের জন্য অনেক সাহায্য দেয়, কিন্তু আমি কোনো সাহায্য পাইনি। যদি একটু সহযোগিতা পেতাম, তাহলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম।হাজেরা বেগম বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ, হাঁটতে পারেন না, কথা বলতেও কষ্ট হয়। আমি ছোট বাচ্চাটারে নিয়ে সারাদিন ভিক্ষা করি। যা পাই, তাই দিয়ে বাজার করে খাই। যেদিন কিছু পাই না, সেদিন না খেয়েই থাকতে হয়। জীবনে কষ্ট ছাড়া কিছু নাই।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা জালাল মিয়া জানান, আলীনুর খুবই অসহায় ও অসুস্থ মানুষ। চার সন্তান নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তার স্ত্রী ভিক্ষা করে সংসার চালাচ্ছে। সরকার বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।