আমার বয়স ৪০ বছর। অনেক কালবৈশাখী ঝড়-তুফান ও বৃষ্টি দেখেছি। কিন্তু এমন শিলাবৃষ্টি জীবনে দেখিনি। আমার দুইটি ঘরের একটা টিনও আস্তা (ভাল) নেই, সব টিন ঝাঁঝড়া হয়ে গেছে। যেভাবে শিলাবৃষ্টি পড়ছিল মনে হচ্ছিল আর বাঁচা যাবে না। বার বার ভয় হচ্ছিল, এই ভেবে- যদি শিলাবৃষ্টির পড়তেই থাকে তাহলে ঘরের ভেতরেই মারা যাব। কারণ শিলাবৃষ্টি ঘরের চাল ছিদ্র করে ঘরের ভেতরে পড়ছিল।
শনিবার ভোর (১৪ মার্চ) রাতে শিলাবৃষ্টিতে বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিষয়টি এভাবেই বর্ননা করছিলেন সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের চাপাইতি গ্রামের মো. রাসেল। তিনি আরও বলেন, আমি গরিব মানুষ, ছোট একটা দোকানে আমার সংসার চলে। শিলাবৃষ্টিতে বসতঘর ও দোকান দুইটি ঘরের চালের কোন একটি টিনও আর ভাল নেই। সারাঘরের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। তাই ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। কীভাবে ঘরের টিন পরিবর্তন করা চিন্তায় আছি। এতবড় ক্ষতির পরও কেউ দেখতেই আসেনি।
শুধু রাসেলই নন, শনিবার রাতে শিলাবৃষ্টিতে মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আরও অনেকেই এরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সঠিক তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে। বসত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বোরো ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের পাটাবুকা গ্রামের রিপচান হাবিব বলেন,শিলাবৃষ্টিতে হাওরের বোরো ফসলের পাশাপাশি বাড়িঘরেরও অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমার একটি ঘরের ২৩ টিন বড় বড় ছিদ্র হয়ে গেছে। টিন পরিবর্তন করতে ১১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এভাবে অনেকের ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চয় ঘোষ বললেন,‘ ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় বোরো ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে জানা গেছে। তবে বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি। খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিকের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, মধ্যনগর উপজেলায় ঝড় বা শিলাবৃষ্টিতে বসত-বাড়ি ক্ষয়-ক্ষতির কোন তথ্য জানা নেই। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করতে পারেন। তবে তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবগত করব।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেছেন, জেলার প্রায় সকল উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবং ফসলের কিছু ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে ৩৭৯ হেক্টর বোরো জমি আক্রান্ত হয়েছে। ক্ষয়-ক্ষতির সঠিক হিসেব কয়েক দিন পর জানা যাবে।