“আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” এই প্রতিপাদ্যে আজ রবিবার সকালে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’র সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক এ,জে,এম রেজাউল আলম’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া । আলোচনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটলিয়ের অধিনায়ক লে. কর্নেল জাকারিয়া কাদির, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন , অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আয়েশা আক্তার।
টিআইবি’র গবেষণা এবং জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা থেকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন উপলক্ষ্যে সুপারিশমালা উত্থাপন করেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), সুনামগঞ্জ’র সভাপতি কানিজ সুলতানা। সুপারিশমালায় উল্লেখ করায়, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়ায় সত্যিকারের অংশগ্রহণ নিশ্চিতে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক কাঠামো মজবুত করাসহ দলীয় নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী পুঁজি হিসেবে অর্থ, পেশী, ধর্ম ও পুরুষতান্ত্রিকতার ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সংসদ নির্বাচনে নারী প্রতিনিধিত্বের সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০ তে উন্নিত করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিতে হবে। রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা ব্যয় বহনের বিধান প্রণয়ন করতে হবে। নারী অধিকার রক্ষা ও তদারকির জন্য একটি স্বতন্ত্র ও স্থায়ী নারী কমিশন গঠন করতে হবে। সকল মাধ্যম ও পদ্ধতির পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীবিদ্বেষী প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা সংশোধন করতে হবে।
জাতীয় ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নারীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধের পূর্বশর্ত হিসেবে নানা অজুহাতে যত্রতত্র হেনস্থা রোধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।