পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার চার হাজার ৬২৫টি দুস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এ সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারি বরাদ্দের ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কার্ড বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ভাগ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ঈশ্বরদী পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে সভা করে দল দুটির নেতাদের মধ্যে এই কার্ড ভাগ করে দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আরিফুর রহমান বলেন, পৌরসভায় মেয়র বা কাউন্সিলর না থাকায় ঝামেলা এড়াতে শীর্ষ নেতাদের কাছে কার্ড দেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরদী পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে ‘কার্ড ভাগাভাগি’র ওই সভায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ছিলেন স্থানীয় এমপি পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের প্রতিনিধি হিসেবে পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা গোলাম আজম, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের প্রতিনিধি হিসেবে পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌর বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুর প্রতিনিধি হিসেবে পৌর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জনি।
বৈঠকের আগে পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে সভায় অংশ নেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ১৫-২০ জন নেতা, ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি নান্নু রহমান, ঈশ্বরদী পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা তাইবুর রহমান, জ্যেষ্ঠ করণিক মাসুদুল ইসলামসহ পৌরসভার অন্য কর্মকর্তারা।
তিন পক্ষের বৈঠক শেষে চার হাজার ৬২৫টি কার্ডের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার দুস্থদের জন্য ৬২৫টি কার্ড রেখে বাকি চার হাজার কার্ড বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে ভাগাভাগি করা হয়। এতে বিএনপিকে দুই হাজার, জামায়াতে ইসলামীকে এক হাজার ২০০ এবং বিএনপির বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাদের জন্য ৮০০টি কার্ড ভাগ করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আরিফুর রহমান বলেন, এসব কার্ড সাধারণত মেয়র-কাউন্সিলরদের মাধ্যমে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দুস্থ পরিবারের মধ্যে বণ্টন করা হয়। কিন্তু এখন পৌরসভায় মেয়র বা কাউন্সিলর নেই, তাই ঝামেলা এড়াতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের পৌরসভায় ডেকে তাদের মধ্যে কার্ড ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে। তারা এসব কার্ড দুস্থদের মধ্যে বণ্টন করবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনও বাড়াবাড়ি করে না, শান্তিপূর্ণ সমাধানের স্বার্থে কার্ডের সংখ্যা কম পেলেও আমরা তা মেনে নিয়েছি।
সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন জনি বলেন, আমি বিএনপি নেতা জাকারিয়া পিন্টুর প্রতিনিধি হিসেবে মিটিংয়ে উপস্থিত হয়েছিলাম। ভিজিএফ কার্ড ভাগ করার ক্ষেত্রে আমরা ছাড় দিয়ে পৌরসভার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছি।
পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবলু বলেন, ভিজিএফ কার্ড প্রদান করার জন্য আমাকে পৌরসভায় আমন্ত্রণ করা হয়েছিল। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কার্ড ভাগ না করে আমাদের তিনজনকে একত্রে আলোচনার জন্য বসিয়ে বিএনপির অন্য গ্রুপকেও কার্ড দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: সমকাল