সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে ইনডোরে দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অনেক সময় হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইনডোরে একজন সিনিয়র সার্জন ও একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিত থেকে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা। তবে বাস্তবে অনেক সময়ই ওই সময়ের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের হাসপাতালে পাওয়া যায় না ।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সিনিয়র সার্জন ডা. লিপিকা দাসকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তখন সময় ছিল দুপুর ১টা।
যেখানে সদর হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র সার্জনের দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার কথা, সেখানে অভিযোগ রয়েছে তিনি দুপুর ১২টার পর থেকেই হাসপাতালের বাইরে ছিলেন।
পরে তাকে ফোনে হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর বিষয়ে অবহিত করা হলে তিনি জানান, হাসপাতালে আউটডোর আবাসিক সার্জন রয়েছেন এবং তাকে বিষয়টি বলে দিচ্ছেন।
এদিকে হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধেও নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে না থাকার অভিযোগ রয়েছে। নিয়মানুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ইনডোরে দায়িত্ব পালন করার কথা থাকলেও তিনি অনেক সময় সকাল ১০টার আগে হাসপাতালে আসেন না এবং দুপুর ১২টার মধ্যেই বাসায় চলে যান।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে তাকে ফোন করা হলে তিনি জানান, তিনি বাসায় অবস্থান করছেন। এ সময় দায়িত্বের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকের ওপর উত্তেজিত হয়ে বলেন,
“আমি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মেডিকেলে থাকতে বাধ্য নই,সিনিয়র সার্জন থাকতে আমাকে কেনো খোজছেন, আপনি আমাকে চার্জ করার কে? আপনাকে আমার পেছনে লাগার জন্য কে বলেছে? আপনার উদ্দেশ্য কী?”
ফলে প্রশ্ন উঠেছে যেখানে ইনডোরে একজন সিনিয়র সার্জন ও একজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিত থাকার কথা, সেখানে ওই সময়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, ইনডোর এ দুপুর ১২ টার পর কোনো ডাক্তার থাকেন না।অন্যদিকে গাইনি ওয়ার্ড নিয়েও রোগীদের অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গাইনি ওয়ার্ডে দুপুর ১২টার পর কোনো রোগী ভর্তি হলে তারা তৎক্ষণাৎ ইনডোর চিকিৎসা সেবা পান না। অনেক সময় পরদিন সকাল ১১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় চিকিৎসকের জন্য। জরুরি সেবা প্রয়োজন এমন রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
আরো অভিযোগ আছে আউটডোরে ১১ টার আগে সার্জন ডাক্তার লোপা রাণী কে পাওয়া যায় না, খোজ নিয়ে যানা যায় তিনি সকালে আউটডোরে না বসে ইনডোরে বসেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন জানান, চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রায়ই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
পরে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি হালকাভাবে উড়িয়ে দেন এবং বলেন, বিষয়টি নিয়ে ডা. নিলুফার ইয়াসমিনের সাথে কথা বলবেন। তবে এ সময় তিনি ডা. নিলুফারের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য না করে হাসপাতালের অন্য এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ তুলে ধরেন,যাকে আউটডোরে সেবা দিতে পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।