৪৪তম জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ও প্রথমবারের মতো টায়ার-১ উন্নীত হয়েছে সুনামগঞ্জ। কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে এফ গ্রুপে ২৩ ফেব্রুয়ারি শেরপুর, ২৫ ফেব্রুয়ারি সিরাজগঞ্জ ও রবিবার (১ মার্চ) নোয়াখালীর বিপক্ষে জয়ী হয়েছে সুনামগঞ্জ।
রবিবার সকাল ৯টায় খেলা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু এই মার্চ মাসেও কুয়াশার কারণে খেলা শুরু হতে প্রায় দুই ঘন্টা বিলম্ব হয়। বেলা পৌনে ১১টায় খেলা মাঠে গড়ায়। যার ফলে ৫০ ওভারের ম্যাচ কার্টেল ওভারে নেমে আসে ৩৭ ওভারে। প্রথম দুই ম্যাচে টস ভাগ্য পক্ষে না থাকলেও শেষ ম্যাচ অর্থাৎ নোয়াখালীর বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সুনামগঞ্জ জেলা দলের অধিনায়ক সাদ্দাম হোসেন।
তবে শুরুটা ভালো হয়নি, দলীয় ২ রানেই ফাহিমের উইকেট হারায় সুনামগঞ্জ। ১ রান করে তিনি প্যাভিলিয়নে ফিরেন। ১৫ ওভারে দলীয় ৬৯ রানের মধ্যে ১৬ বলে ১২ রান করে দিশান, ১৬ বলে ১০ রান করে প্লাবন, ২৮ বলে ৯ রানে আবু বক্কর একে একে প্যাভিলিয়নে ফিরেন। এরপরই দলের হাল ধরেন তাবিব ও ওয়াসিফ আকবর। তাবিব ৪২ বলে দলীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ ও ওয়াসিফ আকবর ৬৮ বলে ১৫৪ স্টাইক রেটে ১০৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে সুনামগঞ্জ শুরুর সংকট কাটিয়ে উঠে শক্ত ভিত্তি পায়। নোয়াখালীর রাব্বীর বলে ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ১১ ছক্কা ও ৪টি চারের মাধ্যমে শতক করেন ওয়াসিফ আকবর। এছাড়াও মাসুম ৭ বলে ৩, সজীব ২৯ বলে ২২, সাদ্দাম ৬ বলে ৯, সাব্বির ৪ বলে ৪ রান করেন। ৩৫.৫ ওভারে ২১৮ রানে অলআউট হয় সুনামগঞ্জ। রানের খাতা খুলতে পারেননি সফর আলী। নোয়াখালীর জিহাদ ২টি, মিনহাজ ১টি, আশরাফুল ৩টি, রাব্বি ২টি এবং মাকসুদুর ও বাবু ১টি করে উইকেট পেয়েছেন।
২১৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ে নোয়াখালী। মাত্র ১৬তম ওভারেই দলীয় শতক পেরিয়ে যায়। নোয়াখালীর দলীয় ১০৫ রানে দ্বিতীয় উইকেট পায় সুনামগঞ্জ। এসময় তারা সহজ পাবে বলেই মনে হচ্ছিল। তবে ১০৮ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রানে অলআউট হয় নোয়াখালী। এক্সট্রা ১৬ রান দিয়েছেন সুনামগঞ্জের বোলাররা। ওপেনিংয়ে নামা নোয়াখালীর মঈনুল দলীয় সর্বোচ্চ ৫৩ বলে ৭৩ রান করেন। এছাড়াও মাকসুদুর ৩৪, রাব্বি ৩০, জিহাদ ১১, মঈন ১০, আলফি ৬, বাবু ৫, আশরাফুল ১০, মুশফিকুর ৩ রান করেন। রানের খাতা খুলতে পারেননি মিনহাজুর ও রাকিবুল। ৭.৫ ওভারে ৩৭ রানে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট পেয়েছেন সুনামগঞ্জের সাব্বির। এছাড়াও সফর আলী ১টি, সজীব ২টি, সাদ্দাম ২টি ও মাসুম ১ উইকেট পেয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা দলের ম্যানেজার জিএম তাশহিজ বলেন, জাতীয় ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপের ৪৪তম আসরে প্রথমবারের মতো অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন ও টায়ার-১ উন্নীত হয়েছে সুনামগঞ্জ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে প্লেয়ার অব দ্যা ম্যাচ হয়েছে ওয়াসিফ আকবর।
তিনি বলেন, ওয়াসিফের দুর্দান্ত শতক এবং অন্যদের ছোট ও কার্যকরী ইনিংসের আমরা দলীয় ভালো সংগ্রহ পেয়েছি। ব্যাটিংয়ে নেমে নোয়াখালীও ভালো শুরু করে। ওদের দ্বিতীয় উইকেট পড়ার পর ধীরে ধীরে বোলাররা আমাদের ম্যাচে ফিরিয়েছে। খেলায়াড়দের সম্মিলিত অবদানে আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি।
ওয়ানডে সংস্করণে ৬৪ দলকে দুই টায়ারে ভাগ করে ১৬ ভেন্যুতে ৮ দিনে মোট ৯৬ ম্যাচ হয়েছে। প্রতিটি টায়ারে ছিল ৩২ দল। প্রথম পর্ব শেষে সেরা আট দল দ্বিতীয় রাউন্ডে কোয়ালিফাই করছে। এদিকে টায়ার-১-এর নিচের আট দল টায়ার-২-তে নেমে রেলিগেশন খেলবে। দ্বিতীয় ধাপে সেরা আট দল রাউন্ড রবিন ফরম্যাটে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল তিন দিনের ম্যাচের ফাইনালে মুখোমুখি হবে।